Law and Crime News India

Raju Roy Advocate, Mob. 9932637937, Politician (Former BJP District Secretary & Former BJP Town Mandal President)


Law and Crime News India

বিষয়বস্তু: #পুলিশ হেফাজতে মানবাধিকার সুরক্ষা:
Paramvir Singh Saini vs Baljit Singh(2020),(Supreme Court of India)

লেখক: শ্রী রাজু রায় (আইনজীবী)

এই মামলাটি ভারতের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক রায় হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে পুলিশ স্টেশন ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় CCTV ক্যামেরা স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে।
পুলিশ হেফাজতে মানবাধিকার সুরক্ষা, স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে CCTV ক্যামেরা স্থাপন সংক্রান্ত নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে দিয়েছে।

মামলার পটভূমি:-
আবেদনকারী Paramvir Singh Saini আদালতের কাছে আবেদন করেন যে, দেশের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও তদন্তকারী সংস্থার কার্যালয়ে CCTV ক্যামেরা স্থাপন করা না থাকায় হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও জীবন রক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

মামলায় উত্থাপিত মূল প্রশ্ন:-
পুলিশ স্টেশন ও তদন্তকারী সংস্থায় CCTV ক্যামেরা স্থাপন কি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত?

CCTV ফুটেজ সংরক্ষণের সময়সীমা কত হবে?

ফুটেজ না থাকলে বা নষ্ট হলে তার দায়িত্ব কার?

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:-
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে বলেন— পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। CCTV ক্যামেরা থাকলে তদন্ত স্বচ্ছ হবে সাধারণ মানুষের পুলিশের উপর আস্থা বৃদ্ধি পাবে। আদালত আরও বলেন, “স্বচ্ছতা(Transparency)ও জবাবদিহিতা (Accountability)” আধুনিক ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দেন।

সংবিধানিক ভিত্তি:-
এই রায় মূলত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ – জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার এবং মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষার্থে সহায়ক।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মূল নির্দেশনাসমূহ:-
সুপ্রিম কোর্ট প্রতিটি থানা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থায় সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করেছে এবং কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী নির্ধারণ করে দিয়েছে:-

* সার্বক্ষণিক নজরদারি: থানার প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, লক-আপ, করিডোর, লবি/রিসেপশন, বারান্দা এবং এমনকি সাব-ইন্সপেক্টর ও ইন্সপেক্টরদের রুমেও সিসিটিভি থাকতে হবে। থানার কোনো অংশই যেন ক্যামেরার আড়ালে না থাকে।

* প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য: ক্যামেরা গুলোতে অবশ্যই অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং এবং নাইট ভিশন (অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা) থাকতে হবে।

* ফুটেজ সংরক্ষণের সময়কাল: আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে সিসিটিভি ফুটেজ অন্তত ১৮ মাস সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে কোনো অভিযোগ দেরিতে জমা পড়লেও প্রমাণ মুছে না যায়।

* তদারকি কমিটি: এই ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য দুটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

* রাজ্য স্তরের তদারকি কমিটি State Level Oversight Committee(SLOC): বাজেট এবং বাস্তবায়নের জন্য দায়ী।
* জেলা স্তরের তদারকি কমিটি District Level Oversight Committee(DLOC): রক্ষণাবেক্ষণ এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দায়ী।

* কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ওপর প্রয়োগ: এই নিয়ম শুধু স্থানীয় পুলিশের জন্য নয়, বরং CBI, NIA, ED, NCB সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ তাদেরও গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা রয়েছে।

নাগরিক অধিকার ও স্বচ্ছতা:-
আদালতের মতে সিসিটিভি বসানো সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার)-এর অন্তর্ভুক্ত একটি বাধ্যবাধকতা।

* জনসাধারণের সচেতনতা: থানায় ইংরেজি, হিন্দি এবং স্থানীয় ভাষায় (যেমন বাংলা) বোর্ড টাঙাতে হবে। সেখানে লেখা থাকবে যে থানাটি সিসিটিভি নজরদারিতে রয়েছে এবং ফুটেজ ১৮ মাস সংরক্ষিত থাকে।

* ফুটেজ পাওয়ার অধিকার: যদি কেউ পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন তবে তিনি বা তাঁর পরিবার মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে এই ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে পাওয়ার দাবি জানাতে পারেন।

এই রায়ের গুরুত্ব:-
এই রায়ের আগে থানার অনেক অংশই "ব্লাইন্ড স্পট" বা ক্যামেরার বাইরে থাকত, যেখানে পুলিশি নির্যাতনের সম্ভাবনা বেশি ছিল। ২৪ ঘণ্টা অডিও-ভিজুয়াল রেকর্ডিং এবং দীর্ঘমেয়াদী স্টোরেজের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট জিজ্ঞাসাবাদের পুরো প্রক্রিয়াটিকে আইনের নজরদারিতে নিয়ে এসেছে।

উপসংহার:-
Paramvir Singh Saini বনাম Baljit Singh মামলা ভারতের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় একটি মাইলফলক রায়। এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পুলিশ স্টেশনে CCTV ক্যামেরা বিলাসিতা নয় বরং একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। উল্লেখ্য যে, সুপ্রিম কোর্ট নিয়মিত ভাবে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকি করছে এবং যে রাজ্যগুলো এটি কার্যকর করতে দেরি করছে তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।
#highlight #follower #creator #WestBengal #legaladvice #WBPolice #court #viral #socialmedia #পুলিশ #policestation #LegalAwareness #coochbeharpolice #CoochbeharNews #advocate #DLSA #humanrights

1 week ago | [YT] | 2

Law and Crime News India

#রিলস এবং স্টোরির আইনি দৃষ্টিভঙ্গি: নিজের অধিকার জানুন, আইনি ফাঁদ এড়িয়ে চলুন:-

লেখক: শ্রী রাজু রায় (আইনজীবী)

সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস এবং স্টোরি ক্রিয়েটরদের জন্য আমি আমার ফলোয়ারদের এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন করার উদ্দেশ্যে এই লেখাটি লিখছি। এই বিষয়ের উপর পরবর্তীতে একটি ভিডিও বানাবো যেটা তাদের আইনি ঝুঁকি (Pitfalls) থেকে দূরে রাখবে। আইনি দৃষ্টিভঙ্গিতে বিস্তারিতভাবে এই প্রতিবেদনটি লিখছি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য স্কুল-কলেজে বিশেষ ল্যাব তৈরি করা হবে 2025-2026 আর্থিক বছরের বাজেটে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ভারতবর্ষের ১৫ হাজার স্কুলে এবং ৫০০টি কলেজে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিশেষ ল্যাব তৈরি হবে এবং এর জন্য এই কেন্দ্রীয় বাজেটে দশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কনটেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে শেখানো হবে অ্যামিনেশন, ভিজুয়াল এফেক্টস, কমিক্স, আইনি সচেতনতা, সামাজিক এবং সাংবিধানিক অধিকার, শিশু সুরক্ষা, নারী অধিকার ও নারী সুরক্ষা ইত্যাদি এই ধরনের গঠনমূলক বিষয়গুলি।

ভারতবর্ষে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আইনি সচেতনতা এখন অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসারের সাথে সাথে আইনি কড়াকড়িও বৃদ্ধি পেয়েছে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আপনার যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন তার একটি বিস্তারিত আইনি বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:-

১. আইটি আইন (Information Technology Act, 2000):
এটি ভারতের ডিজিটাল জগতের প্রধান আইন। বিশেষ করে Section 67 অনুযায়ী অনলাইনে কোনো কুরুচিপূর্ণ বা অশ্লীল তথ্য প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও বিকৃত করা বা ভুল তথ্য ছড়ানো আইনি অপরাধ।

২. কপিরাইট আইন (Copyright Act, 1957):
অন্যের তৈরি গান, ভিডিও ক্লিপ বা আর্টওয়ার্ক অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল।
*বৈধ ব্যবহার(Fair Use): শিক্ষা বা সমালোচনার ক্ষেত্রে সীমিত ব্যবহার করা যায় তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করলে সেটা কপি রাইট রঙ্গনের বরাবর এবং বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।
* মিউজিক লাইব্রেরি: সর্বদা প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব লাইব্রেরি বা রয়্যালটি-মুক্ত মিউজিক ব্যবহার করা নিরাপদ।

৩. কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট (Consumer Protection Act, 2019):-
*২০২২ সালে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য Paid Promotion বা স্পনসরশিপ প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।
* ডিসক্লোজার (Disclosure): কোনো ব্র্যান্ডের প্রচার করলে ভিডিওতে বা ক্যাপশনে স্পষ্ট করে 'Ad', 'Sponsored' বা 'Paid Promotion' লিখতে হবে।
* বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন: যদি কোনো ক্রিয়েটর কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করেন তবে গ্রাহক সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

৪. মানহানি আইন (Defamation Laws):
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো মন্তব্য বা কনটেন্ট তৈরি করলে ফৌজদারি মানহানি (Criminal Defamation) মামলা হতে পারে। মানহানির ক্ষেত্রে দেওয়ানী মামলাও হতে পারে।মানহানি মামলা দু ধরনের হয় দেওয়ানী মামলা এবং ফৌজদারী মামলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে যাচাই না করে কুৎসা রটানো দণ্ডনীয় অপরাধ।

৫. আইটি নিয়মাবলী ২০২১ (IT Rules 2021):-
সরকারের এই নিয়ম অনুযায়ী কোনো কনটেন্ট যদি দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে তবে সরকার সেই কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে পারে। ক্রিয়েটরদের সর্বদা দায়িত্বশীল হয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:
* গোপনীয়তা (Privacy): সাধারণ মানুষের অনুমতি ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও শুট করা থেকে বিরত থাকুন।
* ঘৃণাভাষণ (Hate Speech): ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নিয়ে কোনো বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করবেন না।
* তথ্য যাচাই: ব্রেকিং নিউজ বা সেনসিটিভ কোনো তথ্য দেওয়ার আগে তা বিশ্বস্ত সূত্র থেকে যাচাই করে নিন।

আমাদের ভারতবর্ষে Content Creation, Reels, Shorts, Stories—এই সবকিছু এখন সরাসরি আইনি নিয়ন্ত্রণের আওতায়। নিচে আমি আইনি দৃষ্টিভঙ্গিতে আরো সহজ ভাষায় ও ব্যবহারিকভাবে আরো বিস্তারিতভাবে পুরো আইনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করছি।

৬). সোশ্যাল মিডিয়া কি আইনের আওতায়?
উত্তর :- হ্যাঁ। সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু “ব্যক্তিগত মতামত” নয়—এটি Public Platform.

৭). প্রধান প্রযোজ্য আইনসমূহ (Core Laws):-

(A) Information Technology Act, 2000
গুরুত্বপূর্ণ ধারা:-
Section 66C / 66D → ফেক আইডি তৈরি করে হয়রানি করা এবং অনলাইন প্রতারণা করা।
Section 67 / 67A / 67B → অশ্লীল, যৌন, শিশু সম্পর্কিত কনটেন্ট তৈরি করা।
Section 72 → গোপনীয়তা লঙ্ঘন, Reels/Story-তে অশ্লীলতা বা অশ্লীল ছবি পোস্ট করা হল অপরাধ।

(B) IT Rules, 2021 (সংশোধিত 2023):-

এই রুলস YouTuber, Influencer, Reels Creator—সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নিষিদ্ধ কনটেন্ট তৈরি করা, ভুয়ো তথ্য (Fake News/Yellow News/Paid News) দেওয়া, মানহানিকর বক্তব্য রাখা, রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য রাখা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, নারীদের অবমাননাকর কনটেন্ট তৈরি করা এইসব ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম চাইলে Content Remove করতে পারে এবং Account Block করতে পারে।

(C) Bharatiya Nyaya Sanhita, 2023 (BNS):-

আইন বহির্ভূতভাবে Reel/Story-তৈরি করলে সংশ্লিষ্ট আইনে অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। যথা-মানহানি (Defamation), নারীর শালীনতা লঙ্ঘন, হুমকি (Criminal Intimidation),বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (Hate Speech)। উল্লেখ্য যে, মানহানি (Defamation) মামলার ক্ষেত্রে Civil + Criminal দুটোই মামলা হতে পারে।

৮). গোপনীয়তা লঙ্ঘন (Privacy Violation):
কোন ব্যক্তিকে না জানিয়ে গোপনে তার কল রেকর্ড করা, তার CCTV ফুটেজ, ব্যক্তিগত WhatsApp Chat এবং তার পারিবারিক ভিডিও তার Consent ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হলো আইনি অপরাধ।

৯). নারী ও শিশু সংক্রান্ত কনটেন্ট:

নারী বা শিশুদের কোন আপত্তিকর ফটো, ভিডিও বা নাচের রিল যদি Sexual Presentation হয় এবং সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভিউ বাড়ানোর জন্য করা হয় তাহলে POCSO + IT Act + BNS এর বিভিন্ন ধারায় একসাথে মামলা হবে।

১০). ধর্মীয় রিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পোস্ট করা, অপমান কর রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং উস্কানিমূলক স্টোরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে ভারতীয় দণ্ড বিধির আওতায় Section 153A / 295A ধারায় মামলা হবে।

১১). Copyright & Music ব্যবহার:-

অন্যের মিউজিক / ভিডিও ক্লিপ, ফিল্মের গান, নিউজ ক্লিপ ইত্যাদি ব্যবহার করলে Copyright Strike + Legal Notice দুটোই সম্ভব বা কপিরাইট আইনে মামলা হতে পারে। আপনাকে Advertisement Rules + Consumer Protection Laws মানতে হবে। Paid content-এর ক্ষেত্রে #Ad / #Sponsored না দিলে আইনভঙ্গ হবে।

১২). Safe Content Creator হওয়ার জন্য আইনি চেকলিস্ট :-
তথ্য যাচাই (Source Verify) করা, কারো সম্মান ক্ষুণ্ণ না করা, Consent ছাড়া ব্যক্তিগত কনটেন্ট নয়, শিশু ও নারী সংক্রান্ত কনটেন্টে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা, Paid প্রমোশন হলে Disclosure লেখা। মনে রাখবে আবেগ নয়—আইনি বুদ্ধিতে পোস্ট করা উচিত।

১৩). আইন ও ক্রাইম সংক্রান্ত কনটেন্টের ক্ষেত্রে সাবধানতা:-
Disclaimer লেখা উচিত, Sub-judice matter-এ সাবধানতা অবলম্বন করুন। “Alleged” শব্দ ব্যবহার করা, Court record ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করা, মিডিয়া ট্রায়াল না করা এবং বিচারাধীন বিষয় নিয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত না করা। মহিলা সংক্রান্ত কোনো মামলার ঘটনার উপরে কন্টেন্ট তৈরি করলে সেই মহিলার নাম এবং পরিচয় গোপন রাখা।

১৪). ২০২১ সালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিম্নলিখিত খুব গুরুত্বপূর্ণ বিধি চালু হয়েছে।:-

Information Technology (Intermediary Guidelines and Digital Media Ethics Code) Rules, 2021

এই Rules মূলত YouTube, Facebook, Instagram, X (Twitter)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সবগুলোকেই নিয়ন্ত্রণ করে।

এই Rules কাদের জন্য প্রযোজ্য?
উত্তর -YouTuber, Instagram Reels Creator, Facebook Video/Reels / Story Creator, Digital News / Legal / Crime Content Creator, Influencer & Paid Promoter. আপনি ব্যক্তিগত আইডি হলেও কনটেন্ট যদি পাবলিক হয় তাহলে এই বিধি প্রযোজ্য হবে এবং উপরোক্ত সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হতে পারে।

১৫). আইনি পরামর্শ:- আপনার একটি ভুল পোস্ট আপনার ক্যারিয়ার নষ্ট করতে পারে। কনটেন্ট তৈরির আগে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।

১৬). উপসংহার:- সোশ্যাল মিডিয়ার গঠনমূলক প্রয়োগ যেমন রোজগারের পথ প্রশস্ত করছে এবং জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করছে ঠিক তেমনি সোশ্যাল মিডিয়া মানে শুধু বিনোদন নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে অনেক আইনি বাধ্যবাধকতা। একজন দায়িত্বশীল ক্রিয়েটর হিসেবে আইন মেনে কনটেন্ট তৈরি করুন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। #LegalAdvice #RajuRoyLawFirm #SocialMediaLaw #ContentCreatorRights #DigitalIndia

2 weeks ago | [YT] | 3

Law and Crime News India

বর্তমান সময়ে নারীদের অপরাধ থেকে সুরক্ষা : একটি আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি(The Protection of Women from Crime: A legal Perspective at Present Time).

Written by: Raju Roy Advocate

সর্বপ্রথম এখানে উল্লেখ্য যে, ১-লা জুলাই, ২০২৪ সাল থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-২০২৩ কার্যকরী হয়েছে। উক্ত সময়ের পূর্বে ভারতীয় দণ্ড বিধি-১৮৬০ কার্যকর ছিল। এখানে ভারতীয় দণ্ড বিধির উপর ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-২০২৩ এর মধ্যে বর্তমান ভারতবর্ষের সময়োপযোগী অনেক ধারা সেখানে সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং অনেক ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-২০২৩ নিয়ে বিস্তারিতভাবে পরবর্তীকালে লিখব।

ভারতীয় আইন এবং বিচার ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:-
অসভ্য সমাজে নির্দিষ্ট আইনের অভাবে কোনো ব্যক্তিই অন্য ব্যক্তির আক্রমণ থেকে নিরাপদ ছিল না। “দাঁতের বদলে দাঁত, চোখের বদলে চোখ, জীবনের বদলে জীবন”—এই ছিল আইনের নিয়ম। ভারতবর্ষে #রাজা_মনু (ভগবান শ্রী রামের পূর্বজ বা পূর্বপুরুষ)- এর সময় থেকেই ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অস্তিত্ব শুরু হয়। রাজা মনু-ই প্রথমবারের মতো আঘাত, চুরি, ডাকাতি, মিথ্যা সাক্ষ্য, মানহানি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ব্যভিচার ও ধর্ষণের সংজ্ঞা রচনা করেন এবং ব্যাখ্যা দেন। রাজা নিজেই তাঁর রাজ্যে বিচার পরিচালনা করতেন; বিশেষ পরিস্থিতিতে বিষয়টি বিচারকের কাছে অর্পণ করা হতো। কোনো অপরাধীর উপর জরিমানা আরোপ করা হলে সেই অর্থ রাজার কোষাগারে যেত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হতো না।

#ভারতীয়_দণ্ড_বিধির ইতিহাস:-
বিভিন্ন শাসকের শাসনামলে বিভিন্ন আইন কার্যকর হয়। ব্রিটিশ ভারতের আইনই ভারতীয় আইনের পূর্বসূরি। ব্রিটিশরা ভারতে আগমন করার পর তারা ব্রিটিশ আদলে ভিন্নধর্মী আইন প্রণয়ন করেন, তবে তা সমগ্র ভারতে এক রূপে প্রযোজ্য ছিল না।
১৮৩৪ সালে ব্রিটিশ ভারতে প্রথম ভারতীয় আইন কমিশন গঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল বিচারাধীনতা, আদালতের ক্ষমতা এবং ব্রিটিশ ভারতে আইনের কার্যপ্রণালী ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় অনুসন্ধান করা। প্রথম ভারতীয় আইন কমিশন #ম্যাকাওলের সভাপতিত্বে ভারতীয় দণ্ডবিধি খসড়া প্রণয়ন করে এবং ১৮৩৭ সালে তা ভারতের গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলে পেশ করা হয়। পরবর্তীকালে কিছু আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলের দুই সদস্য দ্বারা সংশোধিত হয়ে ১৮৫৬ সালে আইনসভা কাউন্সিলে উপস্থাপিত হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধি বিল ১৮৬০ সালে আইনসভা কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত হয়। এটি আইনের বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় "দ্য ইন্ডিয়ান পেনাল কোড" (৪৫ অব ১৮৬০) নামে।
ব্রিটিশ ভারতীয় দণ্ড বিধিতে নারী ও পুরুষ উভয়ের সুরক্ষার জন্য এবং অপরাধী বা দোষীর বিরুদ্ধে দণ্ড মূলক বিধান সংযোজন করা হয়।

পরবর্তীকালে অর্থাৎ স্বাধীনতার পর ভারতীয় দণ্ড বিধি একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে। ২০১৩ সালে দিল্লিতে সংঘটিত ধর্ষণ অপরাধের পর এটি সংশোধিত হয়, যা সাধারণভাবে নির্ভয়া ধর্ষণ মামলা নামে পরিচিত। নির্ভয়া ঘটনার পূর্বে ভারতীয় দণ্ড বিধিতে নারীদের সুরক্ষার জন্য নিম্নলিখিত দণ্ড বিধানসমূহ ছিল। যেমন— নারীর সম্মতি ব্যতীত গর্ভপাত বা বলপূর্বক গর্ভপাত (আইপিসি-র ধারা ৩১২, ৩১৩, ৩১৪), ধারা ৩৫৪, ৩৬৬, ৩৬৬-এ, ৩৬৬-বি, ৩৭২, ৩৭৩, ৩৭৬ আইপিসি, বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ (আইপিসির ধারা ৪৯৩, ৪৯৪, ৪৯৫, ৪৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮, ৪৯৮-এ), নারীর অপমান ও বিরক্তি (আইপিসি-র ধারা ৫০৯)। ২০১৮ সালেও ভারতীয় দণ্ড বিধি আইনসহ কিছু ক্রিমিনাল আইন সংশোধিত হয়েছিল।

নির্ভয়া ধর্ষণ ঘটনার পর ভারতীয় দণ্ড বিধিতে সংযোজিত ধারা সমূহ:-
নির্ভয়া ঘটনার পর আমাদের দেশের আইন প্রণেতারা ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় নারীদের আরও কঠোর সুরক্ষা প্রদানের জন্য ফৌজদারি আইন সংশোধন করেন এবং নিম্নলিখিত ধারা সমূহ সংযোজিত হয়। যথা— ধারা ৩২৬-এ, ৩২৬-বি, ৩৫৪-এ, ৩৫৪-বি, ৩৫৪-সি, ৩৫৪-ডি, ৩৭৬-এ, ৩৭৬-বি, ৩৭৬-সি, ৩৭৬-ডি, ৩৭৬-ই, ৫০৯।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কার্যকরী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-২০২৩ এর মধ্যেও অনেক নূতন ধারা সংযোজিত করা হয়েছে ও সাজার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

উপরোক্ত সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও নারীরা এখনো সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত নয়। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি ছাড়াও ভারতে আরও বহু আইন কার্যকর রয়েছে। কোচবিহার জেলা ক্রাইম ব্যুরো তথা দেশের ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর অপরাধ সংক্রান্ত নথি অধ্যয়ন এবং গবেষণা করে পর্যবেক্ষণ করেছি যে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আমাদের সমাজে নারীরা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত নন।

বর্তমান সময়ে কর্যকারী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ছাড়াও নারীর সুরক্ষার জন্য ভারতে কার্যকর বিশেষ ও সহায়ক আইন সমূহের নাম নিচে একত্রে দেওয়া হলো—(শুধু আইনের নাম দিলাম):-

নারীর সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ আইন সমূহ:
1) Protection of Women from Domestic Violence Act, 2005

2) Dowry Prohibition Act, 1961

3) Sexual Harassment of Women at Workplace (Prevention, Prohibition and Redressal) Act, 2013

4) Immoral Traffic (Prevention) Act, 1956

5) Indecent Representation of Women (Prohibition) Act, 1986

6) Prohibition of Child Marriage Act, 2006

7) Medical Termination of Pregnancy Act, 1971

8) Pre-Conception and Pre-Natal Diagnostic Techniques (PCPNDT) Act, 1994

9) Protection of Children from Sexual Offences Act, 2012

10) Transgender Persons (Protection of Rights) Act, 2019

নারী শ্রমিক ও কর্মজীবী নারীর সুরক্ষার আইন:
11) Maternity Benefit Act, 1961

12) Equal Remuneration Act, 1976

13) Factories Act, 1948

14) Unorganised Workers’ Social Security Act, 2008

তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সুরক্ষা আইন (নারীর জন্য প্রাসঙ্গিক):
15) Information Technology Act, 2000

16) Information Technology (Intermediary Guidelines and Digital Media Ethics Code) Rules, 2021

সংবিধানগত অধিকার ও সুরক্ষা (নারীর অধিকার):
17) Constitution of India:
(অনুচ্ছেদ 14, 15(3), 21, 39, 42 ইত্যাদি)

সংক্ষিপ্ত উপসংহার:-
ভারতে নারীর সুরক্ষার জন্য ফৌজদারি আইন + বিশেষ আইন + শ্রম আইন + সাইবার আইন + সংবিধানগত অধিকার—সব মিলিয়ে একটি বহুমাত্রিক আইনি কাঠামো বিদ্যমান। এটাই ভারতবর্ষের সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য।

3 weeks ago | [YT] | 2

Law and Crime News India

প্রিয় ভারতবাসী তথা পশ্চিমবঙ্গবাসী,
আগামীকাল 26-শে জানুয়ারি সারা দেশে প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হবে। ভারতের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা পোস্ট করলাম। ভারতের সংবিধান 26-শে নভেম্বর ১৯৪৯ সালে গণপরিষদ (Constituent Assembly) দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় ধর্মনিরপেক্ষ (Secular) এবং সমাজতন্ত্র (Socialist ) শব্দ দুটি ছিল না। এই শব্দ দুটি ১৯৭৬ সালে ৪২-তম সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে ভারতের সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হয়েছিল।তখন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাননীয়া ইন্দিরা গান্ধী।
#highlight #follower #creator #friends #indian #Constitution #viral #instagram

4 weeks ago | [YT] | 1

Law and Crime News India

গোপনে ফোন কল রেকর্ড করা কি আইনসম্মত?

রচনাকার: শ্রী রাজু রায়(আইনজীবী)।
সংক্ষেপে উত্তর:- না।
কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া গোপনে ফোন কল রেকর্ড করা এবং সেই রেকর্ড অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ

গোপনীয়তা (Confidentiality) ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) লঙ্ঘন করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত গোপনে টেলিফোন কল রেকর্ড করা তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৭২ অনুসারে একটি অপরাধ।

যদি কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়াই টেলিফোন কল রেকর্ড করে এবং সেই ইলেকট্রনিক ফোন কল রেকর্ড অথবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক রেকর্ড, পত্রালাপ, তথ্য, নথি বা অন্যান্য উপাদান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট প্রকাশ বা সরবরাহ করে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে তবে উক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে হতে পারে অথবা সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এই বিধান ব্যক্তির গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তথ্যের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

1 month ago | [YT] | 1

Law and Crime News India

#কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন: প্রতিষ্ঠা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:-

#ঐতিহাসিক পটভূমি:-
কোচবিহার ছিল ব্রিটিশ আমলে একটি স্বতন্ত্র দেশীয় রাজ্য (Princely State) যেখানে মহারাজাদের অধীনে নিজস্ব শাসন ও বিচারব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। এই রাজ্যের প্রশাসনিক ও বিচারিক কাঠামোকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গৃহীত হয়।

#প্রতিষ্ঠা (১৮৮৮ সাল):-
কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৮ সালে মহারাজা শ্রী নৃপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুর–এর শাসন আমলে (১৮৬৩–১৯১১)। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রগতিশীল, আধুনিকমনস্ক, বিচক্ষণ ও শিক্ষানুরাগী শাসক। তাঁর আমলেই কোচবিহারে আধুনিক আদালত ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং লিখিত আইন ও নিয়মিত বিচারপ্রক্রিয়া চালু হয় এবং আইনজীবী পেশার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটেই আইনজীবীদের সংগঠিত করার জন্য কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করা হয় যেটা আজও এই অঞ্চলের বিচারব্যবস্থার একটি ঐতিহ্যবাহী স্তম্ভ।

#মহারাজাদের আমলে বিচারব্যবস্থা:-
মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ ইংরেজি শিক্ষা ও পাশ্চাত্য প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর শাসন আমলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের কাঠামো সুদৃঢ় হয়। নিয়মতান্ত্রিক বিচারপ্রণালী ও নথিভিত্তিক মামলা পরিচালনা শুরু হয়। আইনজীবীদের সামাজিক মর্যাদা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীকালে মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণের আমলে এই বিচারব্যবস্থা আরও আধুনিক ও সুসংগঠিত হয়।

#ঐতিহাসিক গুরুত্ব:-
১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন আজ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি শুধু একটি পেশাগত সংগঠন নয় বরং কোচবিহারের আইন ও বিচার ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়।

#মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের প্রভাব:-
মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ ছিলেন খুবই প্রগতিশীল শাসক। তিনি দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করেন । ১৮৮৪ সালে কৃতদাস প্রথা বন্ধ করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
রাজ্যের বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সংস্কারকে গুরুত্ব দেন। এই সব উদ্যোগের ফলে কোচবিহারে আইন ও বিচার ব্যবস্থার আধুনিক রূপ তৈরির জন্য একটি পেশাগত সংগঠন হিসেবে বার অ্যাসোসিয়েশন–এর জরুরি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছিল।

#বার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যাবলি ও ভূমিকা:-
১৮৮৮ সালের পর থেকে বার অ্যাসোসিয়েশন–এর মতো সংগঠনগুলি সাধারণত নিম্নলিখিত কাজ করে থাকত:-
#পেশাগত মান উন্নয়ন:-
আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, আচরণ ও বিচার প্র্যাকটিস সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া।
#বিচার ব্যবস্থায় সমন্বয়:-
স্থানীয় আদালত ও বিচারব্যবস্থার সাথে আইনজীবীদের সম্পর্ক মজবুত করা।
#আইনের আলোচনা:-
নতুন সমস্যা, ধারাসমূহ, মামলা পরিচালনা পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা।

#বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ১৯৬১ সালে অ্যাডভোকেটস অ্যাক্ট–এর অধীনে বার কাউন্সিল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশন গুলি এখনও পেশাগত সমিতি রূপে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

#ঐতিহাসিক মূল্যমান:-
এটি শুধুমাত্র একটি পেশাগত সংগঠনই নয় বরং বিচার ও প্রশাসনের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজ্যের শাসন, সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাঠামো হিসেবে এটি কাজ করেছে।

#ব্রিটিশ আমলে ভূমিকা:-
ব্রিটিশ শাসনকালে কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন কোচবিহার রাজ্যের আদালতগুলিতে আইনি কাজ পরিচালনা করত।আইনজীবীরা কাজ করতেন দেওয়ানি আদালতে, ফৌজদারি আদালতে, রাজস্ব আদালতে।
কোচবিহার বার এসোসিয়েশন ভবনটি আজও সেই সময়ের ঔপনিবেশিক বিচার ব্যবস্থার স্থাপত্য শৈলীর সাক্ষী। তৎকালীন সময়ে অনেক বিশিষ্ট আইনজীবী রাজ্য শাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। উত্তরবঙ্গে আধুনিক আইন চর্চার ভিত্তি স্থাপন করছেন।

🇮🇳 #ভারতের সঙ্গে সংযুক্তির পর (১৯৪৯):-
উল্লেখ্য যে, কোচবিহার রাজ্যের সঙ্গে ভারত সরকারের মূল চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ২৮-শে আগস্ট। উক্ত স্বাক্ষরিত ভারত ভুক্তি চুক্তি যার মাধ্যমে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা ভারত সরকারকে অর্পণ করেন এবং ১২-ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪৯ থেকে কোচবিহার রাজ্য ভারতের অংশ হয়। এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, কোচবিহারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পেনশন ভোগীদের নিরাপত্তা এবং রাজ্য কোষের অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং পরে ১৯৫০ সালের ১-লা জানুয়ারি থেকে কোচবিহার পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তারপর থেকে কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ শুরু করে। অধুনা এটি কোচবিহার জেলা ও দায়রা আদালতের বার এবং বেঞ্চ হিসাবে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে।

#ঐতিহ্যবাহী ভবন:-
বর্তমান বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনটি একটি ঐতিহ্যবাহী (হেরিটেজ) রাজকীয় স্থাপনা।রাজকীয় ও ব্রিটিশ আমলের স্মৃতিবাহী উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন বিচার সংক্রান্ত ভবন।১৩৭ বছরেরও বেশি সময়ের আইনি ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।

#বিচার ব্যবস্থায় অবদান:-
কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন বহু প্রখ্যাত বিচারপতি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও আইনবিদ তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। সংবিধানিক সচেতনতা গড়ে তুলতে জেলা স্তরে আইনি সংস্কারে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে আসছে।

#ঐতিহাসিক গুরুত্ব (এক কথায়):-
কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশন শুধুমাত্র একটি আইনজীবী সংগঠন নয় । এটি ১৮৮৮ সাল থেকে ন্যায়, গণতন্ত্র ও আইনের ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক।
#highlight #follower #creator #friends #coochbeharpalace #court #BarAssociation #viral #law

1 month ago | [YT] | 2

Law and Crime News India

#জিরো #এফআইআর (Zero FIR): ধারণা, আইনগত ভিত্তি ও বিচারিক ব্যাখ্যা:-

রচনাকার: অ্যাডভোকেট শ্রী রাজু রায়
#ভূমিকা
জিরো এফআইআর (Zero FIR) ধারণাটি প্রবর্তিত হয় ২০১২ সালের নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলার পর গঠিত ন্যায়মূর্তি জে. এস. ভার্মা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হল—বিশেষত নারী ও গুরুতর অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক ন্যায়প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

১)জিরো এফআইআর-এর অর্থ:-
জিরো এফআইআর হল এমন একটি এফআইআর, যা অপরাধ সংঘটনের স্থান বা আঞ্চলিক এক্তিয়ার নির্বিশেষে যেকোনো থানায় দায়ের করা যায়।
২)এই ক্ষেত্রে—
যদি অভিযোগে জামিন অযোগ্য (Cognizable) অপরাধের উপাদান থাকে, তবে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করতে আইনগতভাবে বাধ্য।

৩)এফআইআরটি প্রথমে “জিরো” নম্বর দিয়ে নথিভুক্ত করা হয়—এ কারণেই একে জিরো এফআইআর বলা হয়।

৪)অভিযোগ গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইন-চার্জ বাধ্যতামূলকভাবে তা উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন থানায় প্রেরণ করবেন।

৫)যে থানার এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেই থানা পরে সেটিকে নিয়মিত এফআইআর নম্বর প্রদান করে তদন্ত শুরু করবে।

৬)আইনগত ভিত্তি:-
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৯৭৩ (CrPC)-তে Zero FIR শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
তবে বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ (BNSS)-এ এই ধারণা আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।
BNSS-এর ধারা ১৭৩ অনুযায়ী, থানার আঞ্চলিক এক্তিয়ার না থাকলেও যদি অভিযোগে জামিন অযোগ্য অপরাধ প্রকাশ পায়, তবে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করতে বাধ্য এবং পরবর্তীতে তা সঠিক থানায় স্থানান্তর করতে হবে।
অতএব, জিরো এফআইআর এখন আর কেবল বিচারিক ব্যাখ্যার ফল নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট আইনগত অধিকার।

৭) মহামান্য উচ্চ ন্যায়ালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক রায়:-
ক)Satvinder Kaur বনাম State (1999):
দিল্লি হাইকোর্ট রায় দেয় যে, কোনো নারী অপরাধ সংঘটনের স্থান ছাড়া অন্য যেকোনো স্থান থেকেও অভিযোগ দায়ের করতে পারেন; এখতিয়ার সংক্রান্ত বিষয় পরে নির্ধারিত হতে পারে।
খ)Lalita Kumari বনাম Government of Uttar Pradesh (2014):
মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, যদি অভিযোগে জামিন অযোগ্য অপরাধের তথ্য প্রকাশ পায়, তবে এফআইআর নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
গ)Neelu Shrivastava বনাম State & Others
(2021 SCC OnLine Del 5158):
দিল্লি হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন যে, জিরো এফআইআর ভুক্তভোগীকে দ্রুত প্রতিকার প্রদান করে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করে।

কোন অপরাধে জিরো এফআইআর প্রযোজ্য
শুধুমাত্র জামিন অযোগ্য (Cognizable) অপরাধের ক্ষেত্রেই জিরো এফআইআর দায়ের করা যায়।
১৭৭তম আইন কমিশন রিপোর্ট অনুযায়ী, জামিন অযোগ্য অপরাধ হল সেইসব অপরাধ যেখানে তাৎক্ষণিক পুলিশি হস্তক্ষেপ ও বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার প্রয়োজন।

৮)এফআইআর ও জিরো এফআইআর-এর পার্থক্য:-
ক)এফআইআর শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট থানায়
দায়ের করা যায়।
জিরো এফআইআর যেকোনো থানায় দায়ের করা যায়।

খ)এফআইআর এর ক্ষেত্রে শুরুতেই নিয়মিত এফআইআর নম্বর দেওয়া হয়।

গ)জিরো এফআইআর এর ক্ষেত্রে প্রথমে “জিরো” নম্বর দেওয়া হয়। ওই থানা সরাসরি তদন্ত শুরু করে
পরে উপযুক্ত থানায় স্থানান্তর করা হয়।

ঘ)এফআইআর এর ক্ষেত্রে এক্তিয়ার অপরিহার্য।
জিরো এফআইআর এর ক্ষেত্রে এক্তিয়ার অপ্রাসঙ্গিক।

উপসংহার
জিরো এফআইআর একটি ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ও প্রগতিশীল আইনগত ব্যবস্থা, যা আঞ্চলিক এক্তিয়ারজনিত বাধা দূর করে এবং দ্রুত ন্যায় প্রাপ্তি নিশ্চিত করে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩-এর মাধ্যমে জিরো এফআইআর এখন একটি স্পষ্ট আইনগত অধিকার, যা পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে এবং আইনের শাসনকে সুদৃঢ় করে।

1 month ago | [YT] | 1

Law and Crime News India

Happy New Year 2026

1 month ago | [YT] | 1

Law and Crime News India

How to fill up Enumeration Form?

3 months ago | [YT] | 0

Law and Crime News India

Hi everyone , welcome to my channel Law and Crime News, Subscribe please.

3 months ago | [YT] | 1