নেতাজির জীবন আদর্শ ও তাঁর অজানা সত্য ইতিহাস সন্ধানে এই চ্যানেল সদা দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছে। জনমানসে এই মানুষটিকে নিয়ে জাগরণ সৃষ্টি করাই এই চ্যানেলের উদ্দেশ্য।
সময় এক মহাবিস্ময়, আর সেই সময়ের আবর্তে আপনি আজও এক অমীমাংসিত প্রশ্ন— হে মহাবীর, দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র। আপনার অন্তর্ধান রহস্যের প্রতিটি সত্য আজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম, ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া প্রয়োজন। বাঙালির ললাট থেকে পরাজয় আর গ্লানি মুছে ফেলার সময় এসেছে আজ। আমি তো সামান্য এক সময়ের প্রতিনিধি মাত্র, আপনার সুমহান আত্মত্যাগের কাছে আমরা অতি ক্ষুদ্র। আমি কোনও লেখক নই, নই কোনও গবেষক। আমি একটা প্রজন্ম মাত্র, যা তোমার গ্লানি মুছে দিয়ে আগামীর কাছে ইতিহাসকে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মাত্র। আমার এই কাজ এক দিনের নয়, এটা হাজার হাজার দিনের আবেগ, ভালোবাসা ও চোখের জল মেশানো এক শ্রদ্ধাঞ্জলি মাত্র।
Hi everyone, welcome to my new YouTube Community. Now you can post on my channel too. To get started, tell me in a post what you'd like to see next on my channel. Visit my Community: youtube.com/@IAMBOSE/community
বইমেলায় ‘সুভাষ ফিরেছিলেন’ প্রকাশের প্রথম দিনেই ৫২৬ নম্বর শালিধানের স্টলের সামনে উপচে পড়া মানুষের ভিড় । বইটি প্রথম দু’ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায় । অনেকেই ফিরে যান বই না পেয়েই । যদিও এখন বইটি পাওয়া যাচ্ছে শালিধানের স্টলে। বইমেলর পর অনলাইনেও পাবেন। ধন্যবাদ অসংখ্য নেতাজি অনুরাগীকে প্রথম দিনেই এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য !!
এই পোস্ট কিছু শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীদের জন্য, যাঁদের কাছে দেশের চিন্তা বলতে এমন ভাবধারা যা আন্তর্জাতিক হলেও দেশীয় কখনো ছিল না। এমনই একটি উদাহরণ আরও একবার তুলে দিলাম। কারণ আমার কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তাই জ্ঞান প্রদান করলাম।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় "তোজোর কুকুর" বলে অপমান করেছিল এটা আমাদের সবারই জানা। আজকে আরও একবার আসুন পরিষ্কার হই কেন সেদিন তারা এই কথা বলেছিলেন! কারণ এখনো ফেসবুক পোস্টে অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন এই অভিযোগ নাকি মিথ্যা। হ্যাঁ আসলে ঐতিহাসিক ভুল, আজ মিথ্যাই মনে হবে। আজ যেটা করছেন আগামী দিনে সেটাও মিথ্যা মনে হবে।
তাহলে চলুন বলি সেই গল্প হলেও সত্যি ঘটনা।
এই অপমানটি করা হয়েছিল নেতাজির জাপানের সাথে কৌশলগত জোটের কারণে, যার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেমেছিলেন। রাসবিহারী বোস যদি সেদিন “যুদ্ধ নয় শান্তি চাই" স্লোগান শুনতেন তাহলে আজাদ হিন্দ ফৌজ সেদিন তৈরি হতো না। নেতাজি যদি সেদিন গান্ধীগিরি দেখাতেন, তাহলে আর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি তৈরি হত না। কিন্তু দেশের জন্য সমস্ত ত্যাগ করা সুভাষচন্দ্রকে সেদিনও দেশের মধ্যেই বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল। আর সেই বিরোধীদের মধ্যে অন্যতম ছিল কমিউনিস্টরা। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের বাবা স্টালিন এবং হিটলার বন্ধু ছিল ততক্ষণ সমস্ত ঠিক ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যখন জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে তখনই শুরু হয় গল্পটা। প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করে দিই নেতাজি কখনোই কমিউনিস্ট ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সমাজতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী নেতা। যাঁর কাছে প্রথম এবং প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা। ১৯৪১ সালে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে বৃটিশের নজর এড়িয়ে দেশত্যাগ করে ভারতের স্বাধীনতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় সেনা (আইএনএ) গঠন করেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিদেকি তোজোর সাথে যুক্ত হয়ে দেশকে স্বাধীন করার জন্য ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। হ্যাঁ যদি শুনতে সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে আরও একবার পরিষ্কার করে বলি ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সিপিআই সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে ছিল, যারা মিত্রশক্তিকে (ব্রিটিশদের) সমর্থন করেছিল। তারা নেতাজির জাপানের সাথে জোটকে "ফ্যাসিস্ট" বলে নিন্দা করেছিল। ভালো করে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন আজকে কলকাতার রাস্তায় যে ছবি দেখছেন, সেটা সেদিনও একই রকম ছিল। অর্থাৎ নেতাজিকেও সেটা শুনতে হয়েছিল সেদিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪২–১৯৪৩) ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) তাদের মুখপত্র পিপলস ওয়ার ম্যাগাজিনে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিন্দা করার জন্য প্রচারমূলক কার্টুন ব্যবহার করেছিল। এই কার্টুনগুলি নেতাজির জাপানের সাথে জোটের কারণে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে তাকে "তোজোর কুকুর", "বিশ্বাসঘাতক বোস" বা "জাপানি ফ্যাসিবাদের দৌড়বাজ কুকুর" বলে অপমান করা হয়েছিল। এই কার্টুনগুলি বসুকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিদেকি তোজোর হাতের পুতুল হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। চরম অপমান করা হয়েছিল তাঁকে। সেই নেতাজিকে যিনি আজ যুদ্ধ না করলে দেশটা হয়ত স্বাধীনই হত না।
একটি কার্টুনে নেতাজিকে তোজোর পিঠে চড়া গাধা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা জাপানি সাম্রাজ্যবাদের প্রতি তার আনুগত্যের প্রতীক।আরেকটি কার্টুনে নেতাজিকে তোজোর মুখোশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যেখানে তোজোকে একটি "জঘন্য প্রাণী" হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল।তৃতীয় একটি কার্টুনে নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে , নেতাজিকে বিড়াল বা কুকুর হিসেবে উত্থাপন করতে দেখানো হয়েছিল, যা বোঝাতে চেয়েছিল যে বসু ফ্যাসিস্ট প্রচারের হাতিয়ার।এই কার্টুনগুলি ১৯৪২–১৯৪৩ সালে পিপলস ওয়ার-এ প্রকাশিত হয়েছিল, যখন নেতাজি জাপানের সমর্থনে ভারতীয় জাতীয় সেনা (আইএনএ) পুনর্গঠন করছিলেন। ১৯ জুলাই, ১৯৪২: এই সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় একটি কার্টুন ছাপা হয়েছিল, যেখানে নেতাজিকে একটি গাধা হিসেবে দেখানো হয়, যার পিঠে বসে আছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজো। এতে বোঝানো হয়েছিল যে নেতাজি জাপানি স্বার্থের দাসে পরিণত হয়েছেন। ৮ আগস্ট, ১৯৪৩: এই সংখ্যায় নেতাজিকে “জাপানি ফ্যাসিবাদের তোতাপাখি” বা “Tojo’s running dog” বলা হয় এবং তাঁকে পেটাঁ (ফরাসি নেতা) ও কুইসলিং (নরওয়ের বিশ্বাসঘাতক নেতা)-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই নিবন্ধে নেতাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি নাকি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিশ্বাসঘাতক।
২১ নভেম্বর, ১৯৪২: এক কার্টুনে নেতাজিকে একটি জাপানি বোমা হিসেবে দেখানো হয়, যা দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলার ওপর পড়ছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছিল যে নেতাজির কার্যকলাপ বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট আরও বাড়িয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর, ১৯৪২: এই সংখ্যায় আজাদ হিন্দ ফৌজকে "লুট, ধর্ষণ ও হত্যার বাহিনী" হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং নেতাজিকে “জাপানি সাম্রাজ্যবাদের দালাল” বলা হয়। ড. গঙ্গাধর অধিকারী ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (CPI) একজন বিশিষ্ট তাত্ত্বিক ও নেতা। তিনি ১৯৪৩ সালে People’s War পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন এবং সেই সময়েই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টির প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪২ সালের ২৫ জুলাই People’s War পত্রিকায় অধিকারী নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজকে "জাপানি ফ্যাসিবাদের পঞ্চম বাহিনী" (fifth-column army) হিসেবে আখ্যা দেন এবং নেতাজির কমান্ডার-ইন-চিফ পদ গ্রহণকে "বিপজ্জনক" বলে উল্লেখ করেন।
তিনি নেতাজিকে "তোজোর কুকুর" (Tojo's dog) এবং "জাপানি সাম্রাজ্যবাদের দালাল" হিসেবে চিত্রিত করেন, যা সেই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টির ব্রিটিশপন্থী অবস্থানের প্রতিফলন।
পরবর্তীকালে যদিও এর ভুল স্বীকার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল সুভাষচন্দ্র বসুরকে পর্যবেক্ষণ নাকি সেদিন তাদের ভুল হয়েছিল। অর্থাৎ আবারও সেই ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার। খুব ভালো করে লক্ষ্য করবেন তাদের দলের নেতারা ভুল স্বীকার করলেও মনের মধ্যে আজও সেই সুপ্ত বীজ রয়ে গেছে। সে কারণেই যুদ্ধ নয় শান্তি চাই এর পোস্টে আমাকে আক্রমণ করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে প্রমাণ করতে হবে নেতাজীকে নাকি তাঁরা কখনোই তোজর কুকুর বলেননি । নিন প্রমাণ দিলাম। আর বলুন এটাও মিথ্যে! আর কত ভুল করবেন সেটা আপনারাই জানেন। কিন্তু যারা একদিন নেতাজিকে নিয়ে কুৎসা রটাতে পারে তারা যে দেশকে কতটা ভালোবাসে তা নিয়ে আমার সন্দেহ ছিল আছে থাকবে। আমাকে প্রশ্ন করা ব্যক্তিদের কাছে আমি একটা প্রশ্ন রাখলাম। আপনাদের কমিউনিস্ট পার্টিকে ভারতে নিয়ে আসা মানবেন্দ্র রায়ের ছবি কেন পার্টি অফিসগুলোতে রাখা হয় না? সেই লজ্জাও দেশবাসীকে জানান।
I AM BOSE
সময় এক মহাবিস্ময়, আর সেই সময়ের আবর্তে আপনি আজও এক অমীমাংসিত প্রশ্ন— হে মহাবীর, দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র।
আপনার অন্তর্ধান রহস্যের প্রতিটি সত্য আজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম, ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া প্রয়োজন। বাঙালির ললাট থেকে পরাজয় আর গ্লানি মুছে ফেলার সময় এসেছে আজ। আমি তো সামান্য এক সময়ের প্রতিনিধি মাত্র, আপনার সুমহান আত্মত্যাগের কাছে আমরা অতি ক্ষুদ্র। আমি কোনও লেখক নই, নই কোনও গবেষক। আমি একটা প্রজন্ম মাত্র, যা তোমার গ্লানি মুছে দিয়ে আগামীর কাছে ইতিহাসকে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মাত্র। আমার এই কাজ এক দিনের নয়, এটা হাজার হাজার দিনের আবেগ, ভালোবাসা ও চোখের জল মেশানো এক শ্রদ্ধাঞ্জলি মাত্র।
হে মহাপুরুষ, তোমার দিকে চেয়ে চেয়ে আমি মাঝে মাঝে অবাক হই। তোমার প্রতিটি স্বপ্ন আর অমোঘ বাণী একদিন এই পুণ্য ভারতভূমিতে সত্য রূপে প্রতিধ্বনিত হবেই। তোমার আদর্শকে পাথেয় করে এই লড়াইয়ে নেমেছি— সত্যের জয় হবেই। 🇮🇳
#NetajiSubhashChandraBose #IAmBose #Truth #HistoryOfIndia #BengaliPride #Inspiration
3 days ago | [YT] | 5,882
View 100 replies
I AM BOSE
Hi everyone, welcome to my new YouTube Community. Now you can post on my channel too. To get started, tell me in a post what you'd like to see next on my channel.
Visit my Community: youtube.com/@IAMBOSE/community
4 days ago | [YT] | 121
View 10 replies
I AM BOSE
আসছি
কৃষ্ণনগর
রবিবার বিকেল ৪টায় ।
স্থান: থানার উল্টো দিকে, সেনকো গোল্ডের সামনে ।
1 week ago | [YT] | 361
View 21 replies
I AM BOSE
আজকের দ্যা স্টেটসম্যান... ধন্যবাদ নেতাজি ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসার জন্য। ❤️
2 weeks ago | [YT] | 4,003
View 118 replies
I AM BOSE
দারুণ একটা পডকাস্ট । খুব ভালো সময় কাটল ❤️
2 weeks ago | [YT] | 2,722
View 38 replies
I AM BOSE
বইমেলায় ‘সুভাষ ফিরেছিলেন’ প্রকাশের প্রথম দিনেই ৫২৬ নম্বর শালিধানের স্টলের সামনে উপচে পড়া মানুষের ভিড় । বইটি প্রথম দু’ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায় । অনেকেই ফিরে যান বই না পেয়েই । যদিও এখন বইটি পাওয়া যাচ্ছে শালিধানের স্টলে। বইমেলর পর অনলাইনেও পাবেন। ধন্যবাদ অসংখ্য নেতাজি অনুরাগীকে প্রথম দিনেই এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য !!
3 weeks ago | [YT] | 3,354
View 73 replies
I AM BOSE
আজ বইমেলায় থাকছি বিকেল ৪টে থেকে, স্টল: ৫২৬
শালিধান, ৮ নম্বর গেট ।
3 weeks ago | [YT] | 170
View 10 replies
I AM BOSE
ধন্যবাদ সংবাদ প্রতিদিন । দেখবেন কিন্তু এপিসোডটা ।
https://youtu.be/vpp_jkNkVYM?si=O07ak...
3 weeks ago | [YT] | 747
View 20 replies
I AM BOSE
এই পোস্ট কিছু শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীদের জন্য, যাঁদের কাছে দেশের চিন্তা বলতে এমন ভাবধারা যা আন্তর্জাতিক হলেও দেশীয় কখনো ছিল না। এমনই একটি উদাহরণ আরও একবার তুলে দিলাম। কারণ আমার কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তাই জ্ঞান প্রদান করলাম।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় "তোজোর কুকুর" বলে অপমান করেছিল এটা আমাদের সবারই জানা। আজকে আরও একবার আসুন পরিষ্কার হই কেন সেদিন তারা এই কথা বলেছিলেন! কারণ এখনো ফেসবুক পোস্টে অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন এই অভিযোগ নাকি মিথ্যা। হ্যাঁ আসলে ঐতিহাসিক ভুল, আজ মিথ্যাই মনে হবে। আজ যেটা করছেন আগামী দিনে সেটাও মিথ্যা মনে হবে।
তাহলে চলুন বলি সেই গল্প হলেও সত্যি ঘটনা।
এই অপমানটি করা হয়েছিল নেতাজির জাপানের সাথে কৌশলগত জোটের কারণে, যার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেমেছিলেন।
রাসবিহারী বোস যদি সেদিন “যুদ্ধ নয় শান্তি চাই" স্লোগান শুনতেন তাহলে আজাদ হিন্দ ফৌজ সেদিন তৈরি হতো না। নেতাজি যদি সেদিন গান্ধীগিরি দেখাতেন, তাহলে আর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি তৈরি হত না।
কিন্তু দেশের জন্য সমস্ত ত্যাগ করা সুভাষচন্দ্রকে সেদিনও দেশের মধ্যেই বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল। আর সেই বিরোধীদের মধ্যে অন্যতম ছিল কমিউনিস্টরা।
কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের বাবা স্টালিন এবং হিটলার বন্ধু ছিল ততক্ষণ সমস্ত ঠিক ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যখন জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে তখনই শুরু হয় গল্পটা।
প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করে দিই নেতাজি কখনোই কমিউনিস্ট ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সমাজতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী নেতা।
যাঁর কাছে প্রথম এবং প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা।
১৯৪১ সালে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে বৃটিশের নজর এড়িয়ে দেশত্যাগ করে ভারতের স্বাধীনতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় সেনা (আইএনএ) গঠন করেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিদেকি তোজোর সাথে যুক্ত হয়ে দেশকে স্বাধীন করার জন্য ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। হ্যাঁ যদি শুনতে সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে আরও একবার পরিষ্কার করে বলি ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
সিপিআই সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে ছিল, যারা মিত্রশক্তিকে (ব্রিটিশদের) সমর্থন করেছিল। তারা নেতাজির জাপানের সাথে জোটকে "ফ্যাসিস্ট" বলে নিন্দা করেছিল।
ভালো করে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন আজকে কলকাতার রাস্তায় যে ছবি দেখছেন, সেটা সেদিনও একই রকম ছিল। অর্থাৎ নেতাজিকেও সেটা শুনতে হয়েছিল সেদিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪২–১৯৪৩) ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) তাদের মুখপত্র পিপলস ওয়ার ম্যাগাজিনে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিন্দা করার জন্য প্রচারমূলক কার্টুন ব্যবহার করেছিল। এই কার্টুনগুলি নেতাজির জাপানের সাথে জোটের কারণে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে তাকে "তোজোর কুকুর", "বিশ্বাসঘাতক বোস" বা "জাপানি ফ্যাসিবাদের দৌড়বাজ কুকুর" বলে অপমান করা হয়েছিল। এই কার্টুনগুলি বসুকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিদেকি তোজোর হাতের পুতুল হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। চরম অপমান করা হয়েছিল তাঁকে। সেই নেতাজিকে যিনি আজ যুদ্ধ না করলে দেশটা হয়ত স্বাধীনই হত না।
একটি কার্টুনে নেতাজিকে তোজোর পিঠে চড়া গাধা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা জাপানি সাম্রাজ্যবাদের প্রতি তার আনুগত্যের প্রতীক।আরেকটি কার্টুনে নেতাজিকে তোজোর মুখোশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যেখানে তোজোকে একটি "জঘন্য প্রাণী" হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল।তৃতীয় একটি কার্টুনে নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে , নেতাজিকে বিড়াল বা কুকুর হিসেবে উত্থাপন করতে দেখানো হয়েছিল, যা বোঝাতে চেয়েছিল যে বসু ফ্যাসিস্ট প্রচারের হাতিয়ার।এই কার্টুনগুলি ১৯৪২–১৯৪৩ সালে পিপলস ওয়ার-এ প্রকাশিত হয়েছিল, যখন নেতাজি জাপানের সমর্থনে ভারতীয় জাতীয় সেনা (আইএনএ) পুনর্গঠন করছিলেন।
১৯ জুলাই, ১৯৪২:
এই সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় একটি কার্টুন ছাপা হয়েছিল, যেখানে নেতাজিকে একটি গাধা হিসেবে দেখানো হয়, যার পিঠে বসে আছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজো। এতে বোঝানো হয়েছিল যে নেতাজি জাপানি স্বার্থের দাসে পরিণত হয়েছেন।
৮ আগস্ট, ১৯৪৩:
এই সংখ্যায় নেতাজিকে “জাপানি ফ্যাসিবাদের তোতাপাখি” বা “Tojo’s running dog” বলা হয় এবং তাঁকে পেটাঁ (ফরাসি নেতা) ও কুইসলিং (নরওয়ের বিশ্বাসঘাতক নেতা)-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই নিবন্ধে নেতাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি নাকি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিশ্বাসঘাতক।
২১ নভেম্বর, ১৯৪২:
এক কার্টুনে নেতাজিকে একটি জাপানি বোমা হিসেবে দেখানো হয়, যা দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলার ওপর পড়ছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছিল যে নেতাজির কার্যকলাপ বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট আরও বাড়িয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর, ১৯৪২:
এই সংখ্যায় আজাদ হিন্দ ফৌজকে "লুট, ধর্ষণ ও হত্যার বাহিনী" হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং নেতাজিকে “জাপানি সাম্রাজ্যবাদের দালাল” বলা হয়।
ড. গঙ্গাধর অধিকারী ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (CPI) একজন বিশিষ্ট তাত্ত্বিক ও নেতা। তিনি ১৯৪৩ সালে People’s War পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন এবং সেই সময়েই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টির প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪২ সালের ২৫ জুলাই People’s War পত্রিকায় অধিকারী নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজকে "জাপানি ফ্যাসিবাদের পঞ্চম বাহিনী" (fifth-column army) হিসেবে আখ্যা দেন এবং নেতাজির কমান্ডার-ইন-চিফ পদ গ্রহণকে "বিপজ্জনক" বলে উল্লেখ করেন।
তিনি নেতাজিকে "তোজোর কুকুর" (Tojo's dog) এবং "জাপানি সাম্রাজ্যবাদের দালাল" হিসেবে চিত্রিত করেন, যা সেই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টির ব্রিটিশপন্থী অবস্থানের প্রতিফলন।
পরবর্তীকালে যদিও এর ভুল স্বীকার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল সুভাষচন্দ্র বসুরকে পর্যবেক্ষণ নাকি সেদিন তাদের ভুল হয়েছিল। অর্থাৎ আবারও সেই ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার। খুব ভালো করে লক্ষ্য করবেন তাদের দলের নেতারা ভুল স্বীকার করলেও মনের মধ্যে আজও সেই সুপ্ত বীজ রয়ে গেছে। সে কারণেই যুদ্ধ নয় শান্তি চাই এর পোস্টে আমাকে আক্রমণ করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে প্রমাণ করতে হবে নেতাজীকে নাকি তাঁরা কখনোই তোজর কুকুর বলেননি । নিন প্রমাণ দিলাম। আর বলুন এটাও মিথ্যে!
আর কত ভুল করবেন সেটা আপনারাই জানেন। কিন্তু যারা একদিন নেতাজিকে নিয়ে কুৎসা রটাতে পারে তারা যে দেশকে কতটা ভালোবাসে তা নিয়ে আমার সন্দেহ ছিল আছে থাকবে।
আমাকে প্রশ্ন করা ব্যক্তিদের কাছে আমি একটা প্রশ্ন রাখলাম। আপনাদের কমিউনিস্ট পার্টিকে ভারতে নিয়ে আসা মানবেন্দ্র রায়ের ছবি কেন পার্টি অফিসগুলোতে রাখা হয় না? সেই লজ্জাও দেশবাসীকে জানান।
3 weeks ago | [YT] | 1,850
View 257 replies
I AM BOSE
কিছু ভালোবাসা ও কিছু সম্মান ❤️
3 weeks ago | [YT] | 1,821
View 42 replies
Load more