Hedayatul Quran BD

Welcome to Hedayatul Quran BD YouTube Channel.
Hedayatul Quran BD is an Online Islamic Madrasah and Educational Research Center. Anyone can acquire Islamic knowledge at home by joining us.
Contact us on WhatsApp: +8801791498560


Hedayatul Quran BD

✎ সিজদায়ে তিলাওয়াতের কিছু মাসআলা: (পার্ট ৩)

📋 এক সিজদার আয়াত একাধিকবার পড়া:

মাসআলা : একাধিক সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে (চাই এক মজলিসে হোক বা ভিন্ন মজলিসে হোক) প্রতিটি আয়াত তিলাওয়াতের জন্য পৃথক সিজদা করতে হবে। —কিতাবুল আছল ১/২৮১

মাসআলা : কোনো একটি নির্দিষ্ট সিজদার আয়াত এক বৈঠকে একাধিকবার পড়লে একটি সিজদাই ওয়াজিব হয়। অনুরূপ একই মজলিসে একই আয়াত একাধিকবার শুনলে (চাই এক ব্যক্তি থেকে হোক বা একাধিক ব্যক্তি থেকে হোক, যেমন হেফজ বা মক্তবের শিক্ষকগণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে) একটি সিজদাই ওয়াজিব হয়।

মাসআলা : একই সিজদার আয়াত নিজে তিলাওয়াত করে ঐ বৈঠকেই অন্যজন থেকে তা শুনলে উভয়টির জন্য (নিজের তিলাওয়াত ও অন্যের থেকে শোনা) একটি সিজদাই যথেষ্ট হবে। —কিতাবুল আছল ১/২৭৩

মাসআলা : মসজিদের ভেতরে বা কোনো ঘরে হেঁটে হেঁটে একটি সিজদার আয়াত বারবার পড়লে (যেমনটি হাফেজগণ করে থাকেন) একটি সিজদা ওয়াজিব হয়। হেঁটে হেঁটে পড়ার কারণে একাধিক সিজদা ওয়াজিব হবে না। কেননা মসজিদ ও ঘর একই মজলিস হিসাবে ধর্তব্য হয়। —ফাতাওয়া সিরাজিয়াহ, পৃ. ১৪; ফাতহুল কাদীর ১/৪৭৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৩৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৫

মাসআলা : (১৬) সফর অবস্থায় যানবাহনে বসে একটি সিজদার আয়াত (মুখস্থ করা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে) বারবার পড়লেও একটি সিজদা ওয়াজিব হবে। —বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৩৩; রদ্দুল মুহতার ২/১১৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫০৪; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৪৩

2 years ago | [YT] | 8

Hedayatul Quran BD

✎ সিজদায়ে তিলাওয়াতের কিছু মাসআলা: (পার্ট ২)

যাদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হয় না:
অবুঝ নাবালেগ ছেলে ও মস্তিষ্কবিকৃত ব্যক্তি থেকে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে শিশু নাবালেগ হলেও বুঝমান হলে তার কণ্ঠে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হবে। —কিতাবুল আছল ১/২৭২; বাদায়েউস সানায়ে; ১/৪৪০; রদ্দুল মুহতার ২/১০৭-১০৮

📋 সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায়ের পদ্ধতি

মাসআলা : সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায়ের উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে, দাঁড়িয়ে নিয়ত করে হাত উঠানো ছাড়া আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যাবে। সিজদায় গিয়ে তিনবার سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلٰى পড়ে পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে যাবে। এভাবে শুধু একটি সিজদা করবে। —আলবাহরুর রায়েক ২/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৭; ইলাউস সুনান ৭/২৪৯-২৫০

মাসআলা : সিজদায়ে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাকবীরের সময় হাত উঠানো, হাত বাঁধা, শেষে বৈঠক, তাশাহহুদ, সালাম ফিরানো এসবের কোনো নিয়ম নেই। তাই এক্ষেত্রে এমন কিছু করবে না। —আলমাবসূত, সারাখসী ২/১০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫০৫ আলবাহরুর রায়েক ১/১২৬

মাসআলা : সিজদায়ে তিলাওয়াতের সময় দাঁড়ানো থেকে সিজদায় যাওয়া এবং সিজদা করে আবার দাঁড়িয়ে যাওয়া উভয়টিই মুস্তাহাব। সুতরাং একাধিক সিজদা আদায় করার ক্ষেত্রেও প্রতিটি সিজদা শেষে দাঁড়িয়ে যাবে তারপর আরেকটি সিজদা করবে। তবে না দাঁড়িয়ে যদি বসা থেকে সিজদায় যায় তাহলেও সিজদা আদায় হয়ে যাবে। —আলবাহরুর রায়েক ২/১২৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ২৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৭

মাসআলা : জমিনে সিজদা করতে সক্ষম নয় এমন অসুস্থ ব্যক্তি নামাযের সিজদার ন্যায় ইশারা করে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে পারবে। —কিতাবুল আছল ১/২৭৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫০১

📋মাকরূহ ওয়াক্তে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা:

মাসআলা : মাকরূহ ওয়াক্ত তথা সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও দ্বিপ্রহরের সময় সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা নিষেধ। তাই এ সময়গুলোতে সিজদা আদায় থেকে বিরত থাকবে। মাকরূহ ওয়াক্তের আগে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে মাকরূহ ওয়াক্তে সিজদা করলে সিজদা আদায়ই হবে না, পুনরায় তা আদায় করতে হবে। তবে মাকরূহ ওয়াক্তেই যদি কারো উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয় এবং সে এ সময়ে সিজদা আদায় করে তাহলে যদিও সিজদা আদায় হয়ে যাবে তবুও এসময়ে সিজদা আদায় করা অনুত্তম। এক্ষেত্রেও একটু দেরি করে মাকরূহ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর তা আদায় করবে। নিষিদ্ধ সময়গুলো ছাড়া অন্য যে কোনো সময় সিজদা আদায় করা যায়। —আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫৭; আলবাহরুর রায়েক ১/১৫০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৭৩

মাসআলা :ফজরের নামাযের আগে-পরে এবং আছরের পর সূর্য হলদে বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত (অর্থাৎ যে সময়গুলোতে নফল নামায পড়া যায় না সে) সময়গুলোতেও সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা যাবে; এতে অসুবিধা নেই। তাবেয়ী ইকরিমা রাহ. বলেন—


إذا قرأت القرآن فأتيت على السجدة بعد العصر، وبعد الغداة فاسجد.
আছর বা ফজরের পর কুরআন তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত আসলে তখনই সিজদা করো। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৩২৬) —শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ১/৫৪৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৫; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৬৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৭৫

2 years ago | [YT] | 7

Hedayatul Quran BD

✎ সিজদায়ে তিলাওয়াতের কিছু মাসআলা: (পার্ট ১)
সিজদায়ে তিলাওয়াত কুরআন মাজীদের হক এবং গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ একটি ইবাদত। সিজদার আয়াত পাঠের পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম কতৃর্ক খুবই গুরুত্বের সাথে সিজদা আদায় করার কথা একাধিক হাদীস শরীফে এসেছে।


সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন—
"নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন। অতঃপর সিজদা করতেন। আমরাও তাঁর সাথে সিজদা করতাম। এতো ভিড় হতো যে, আমাদের মাঝে কেউ কেউ সিজদা করার জন্য কপাল রাখার জায়গা পেত না।" —সহীহ বুখারী, হাদীস ১০৭৬


✎কুরআন মাজীদে মোট সিজদার আয়াতের সংখ্যা:
কুরআন মাজীদে সিজদার আয়াতের সংখ্যা মোট চৌদ্দটি। যেগুলো আমাদের উপমহাদেশে প্রকাশিত মুসহাফগুলোতে ‘সিজদা’ শব্দ লিখে ও আয়াতের সংশ্লিষ্ট অংশের উপরে বা নিচে লম্বা দাগ টেনে চিহ্নিত করা রয়েছে। এ আয়াতগুলোর কোনোটি তিলাওয়াত করলে বা কারো থেকে শ্রবণ করলে সিজদায়ে তিলাওয়াত করা ওয়াজিব হবে। —কিতাবুল আছল ১/২৭৩


✎ সিজদায়ে তিলাওয়াত কার উপর ওয়াজিব, কখন ওয়াজিব:
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমানের উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব। এ ধরনের কেউ সিজদার আয়াত পাঠ করলে বা অন্য কারো থেকে শ্রবণ করলে তাকে সিজদা করতে হয়। নাবালেগ ও মস্তিষ্কবিকৃত ব্যক্তির উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব নয়। তবে হায়েয ও নেফাস অবস্থায় মহিলারা কারো থেকে সিজদার আয়াত শুনলে তাদের উপর সিজদা ওয়াজিব হয় না।

2 years ago | [YT] | 13

Hedayatul Quran BD

🌟 সূরা মুলক এর ফজিলত :

⭐ আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً، تَشْفَعُ لِصَاحِبِهَا حَتَّى يُغْفَرَ لَهُ: تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ.

কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে। যে ব্যক্তি নিয়মিত সেই সূরা তিলাওয়াত করবে তার জন্য ক্ষমা আদায় করা পর্যন্ত সূরাটি সুপারিশ করতে থাকবে। সেই সূরা হল, ‘তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক’। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪০০; জামে তিরমিযী, হাদীস ২৮৯১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৭৮৭


⭐ আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هِيَ إِلَّا ثَلَاثُونَ آيَةً، خَاصَمَتْ عَنْ صَاحِبِهَا حَتَّى أَدْخَلَتْهُ الْجَنَّةَ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ.

কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে। নিয়মিত যে ব্যক্তি সেই সূরা তিলাওয়াত করবে তার পক্ষে সে তর্ক করবে। একপর্যায়ে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। সেটি হল সূরা মুলক।
-আলমুজামুল আউসাত তবারানী, হাদীস ৩৬৫৪; আলআহাদীসুল মুখতারাহ লিল মাকদিসী, হাদীস ১৭৩৮

⭐ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-
مَنْ قَرَأَ تَبٰرَكَ الَّذِیْ بِیَدِهِ الْمُلْكُ كُلَّ لَيْلَةٍ مَنَعَهُ اللهُ بِهَا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَكُنَّا فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نُسَمِّيهَا الْمَانِعَةَ، وَإِنَّهَا فِي كِتَابِ اللهِ سُورَةٌ مَنْ قَرَأَ بِهَا فِي كُلِّ لَيْلَةٍ فَقَدْ أَكْثَرَ وَأَطَابَ.



যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা মুলক পড়বে আল্লাহ তাআলা তাকে এর ওসিলায় কবরের আযাব থেকে মুক্ত রাখবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় এই সূরাকে আমরা বলতাম- ‘মানেআ’ অর্থাৎ কবরের আযাব প্রতিরোধকারী। যে ব্যক্তি প্রতি রাতে এই সূরা তিলাওয়াত করল সে অনেক তিলাওয়াত করল এবং উত্তম কাজ করল।

-সুনানে কুবরা নাসায়ী, হাদীস ১০৫৪৭; আলমুজামুল কাবীর তবারানী, হাদীস ১০২৫৪; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৮৩৯

2 years ago | [YT] | 2

Hedayatul Quran BD

আয়াতুল কুরসীর বিশেষ কিছু ফযীলত:


উবাই ইবনে কা‘ব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আবুল মুনযিরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবুল মুনযির, তুমি কি জানো আল্লাহর কিতাবের যে আয়াতগুলো তুমি হিফয করেছ তার মধ্যে কোন্ আয়াত শ্রেষ্ঠ?



আবুল মুনযির বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।

তিনি আবার বললেন, হে আবুল মুনযির, তুমি কি জানো আল্লাহর কিতাবের যে আয়াতগুলো তুমি হিফয করেছ তার মধ্যে কোন্ আয়াত শ্রেষ্ঠ?



তখন আমি বললাম-



اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ...



তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে চাপড় দিয়ে বললেন, ইলম তোমার জন্য সহজ হোক হে আবুল মুনযির। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮১০



আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত দীর্ঘ একটি হাদীসে এসেছে, এক আগন্তুকের সাথে তার কথোপকথন হল। একপর্যায়ে সে বলল-



إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ لَنْ يَزَالَ مَعَكَ مِنْ اللَّهِ حَافِظٌ وَلَا يَقْرُبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ.



তুমি রাতে যখন ঘুমাতে যাবে, আয়াতুল কুরসী পড়বে। তাহলে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন হেফাযতকারী ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তোমার সঙ্গে থাকবেন। ফলে শয়তান তোমার কাছেও ভিড়তে পারবে না।



পুরো ঘটনা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-



صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ، ذَاكَ شَيْطَانٌ.

সে ছিল (ইবলিস) শয়তান। সে মিথ্যুক হলেও কথা সত্য বলেছে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০১০

2 years ago | [YT] | 1

Hedayatul Quran BD

✅ কোরবানি সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল:

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ -মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫



✅ কার উপর কুরবানী ওয়াজিব:



মাসআলা : প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নেসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হল- এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। -আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫


✅ কুরবানী করতে না পারলে


মাসআলা : কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করেছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

কোন্ কোন্ পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে


মাসআলা : উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫


✅ কুরবানীর পশুর বয়সসীমা


মাসআলা : উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে।

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬


মাসআলা : উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যে কোন অংশে অংশীদার হওয়া জায়েয। এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ- যেমন, দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭


✅ কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ


মাসআলা : কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে। -হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২


মাসআলা : শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না।


মাসআলা : যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০


✅ রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী


মাসআলা : এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫; আলমগীরী ৫/২৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী


মাসআলা : গরু-ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে তা দ্বারা যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে তবে সেটি দ্বারা কুরবানী সহীহ। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ঐ পশু কুরবানী করা যাবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫; ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/২৯৮


✅ যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে


মাসআলা : যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। কিন্তু শিং ভাঙ্গার কারণে মস্তিষ্কে যদি আঘাত না পৌঁছে তাহলে সেই পশু দ্বারা কুরবানী জায়েয। তাই যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি, সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। -জামে তিরমিযী ১/২৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪; আলমগীরী ৫/২৯৭

কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী


মাসআলা : যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের কম হয় তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫; মুসনাদে আহমাদ ১/৬১০; ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৫২; আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮


✅ মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী


মাসআলা : মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমাদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫; ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; কাযীখান ৩/৩৫২

অন্য কারো ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে চাইলে


মাসআলা : অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে চাইলে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি নিলে এর দ্বারা ওই ব্যক্তির কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। নতুবা ওই ব্যক্তির কুরবানী আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী বা সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে অনুমতি নিয়ে আদায় করা ভালো।


✅ গোশত, চর্বি বিক্রি করা


মাসআলা : কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫; কাযীখান ৩/৩৫৪; আলমগীরী ৫/৩০১

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্র করা


মাসআলা : বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে বা অন্য কোথাও কুরবানী করা জায়েয।

মাসআলা : কুরবানীদাতা এক স্থানে আর কুরবানীর পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের নামায পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮


✅ কুরবানীর পশুর হাড় বিক্রি

মাসআলা : কুরবানীর মৌসুমে অনেক মহাজন কুরবানীর হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর জেনেশুনে মহাজনদের জন্য এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫; কাযীখান ৩/৩৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১


✅ কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো


মাসআলা : কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও গোশত খাওয়ানো যাবে। -আহকামুল কুরআন জাস্সাস ৩/২৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/৩২৬; ইমদাদুল মুফতীন পৃ. ৮০২

জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া


মাসআলা : কুরবানীর পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েয। তবে কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। -কিফায়াতুল মুফতী ৮/২৬৫

2 years ago | [YT] | 3

Hedayatul Quran BD

জুমআর দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলো মধ্যে একটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা হচ্ছে জুমআর দিনে ‘সুরা কাহফ’ তেলাওয়াত করা। পবিত্র কুরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮নং সুরা এটি। যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে তবে সে যেন এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।
জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত
- যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।
- যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম) (মিশকাত)।
- ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।
- জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করিলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)

2 years ago | [YT] | 5

Hedayatul Quran BD

আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র হেফাজতকারী

2 years ago | [YT] | 5