MyWindow মনের জানালা

WilliumKaosar


MyWindow মনের জানালা

She enjoyed nature of village

5 months ago | [YT] | 0

MyWindow মনের জানালা

শুকনা মরিচের ভর্তা দাদাজান খুব পছন্দ করতেন।
প্রচুর ঝাল খেতে পারতেন এবং ভালোবাসতেন। বয়স ১০৪+ কিন্তু তার কোন শারিরীক রোগ ছিলো না। বয়সের বিষয়টা ১০৪ বলেছি এটা অন্যদের থেকে শোনা কথা। আর দাদাজানের কথায় বয়স আরো অনেক বেশী, তাই সেটা বললাম না।
বর্নে অতি কালো চামড়ার ছিলো সেজন্য সবাই কালামিয়া বলে ডাকতেন। আমি মোটামুটি কৈশোরেও জানতাম তার আসল নাম কালামিয়া। মূলত তার নাম হাচান আলী বেপারী, তবে হাচান আলি মুন্সি নামে সামাজিক পরিচিতি।
মুন্সি খেতাব কি কারনে তা আমার জানা নেই। এবং মুন্সি খেতাব পেতে কতদূর শিক্ষার প্রয়োজন তাও জানি না। তবে তিনি নি:সন্দেহে একজন খাঁটি মানুষ ছিলেন। দীনি শিক্ষার বিষয়ে খুব অল্প জানতেন এবং সেই অল্প পরিসরে খুব পালনের চেষ্টা করতেন।
অপ্রয়োজনীয় আনাডা-কুনাডা মসলাবাজি তিনি পছন্দ করতেন না। তবে তার আমলে আমাদের বাড়ীতে টেলিভশন, সিনেমা, যাত্রা দেখা, মেলাত যাওয়া, হোক্কা খাওয়া, মহিলাদের বেগানা পুরুষের সাথে কথা বলা এগুলো নিষিদ্ধ ছিলো।
ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার পথে কারো ঘড়ে হোককা টানাৱ শব্দ পেয়ে নামাজ পড়তে না গিয়ে হোককা টানাৱ অপৱাধে সেই হুক্কার বাট ধরে সেই লোকের মাথায় হুক্কার কলকি ফাটিয়েছিলেন।
** : তিনি কোন একজনের কাছে নাকি শুনেছেন আজান দেয়া অনেক বেশী সওয়াবের কাজ। এবং এর নেকির পরিমান এমন যে, যদি দুনিয়ার মানুষ এটা জানতো তাহলে আজান দেয়ার জন্য সিরিয়াল লেগে যেতো কিংবা আজান দেয়া নিয়ে লাড়ই লেগে যেতো। (এটা উদহরন).
সেই বিশ্বাস তার ভিতরে এমন ভাবে গেথেছিলো তিনি আজীবন মসজিদে মুয়াজজিনের দ্বায়ভার নিলেন।
খুব দারাজ কন্ঠ ছিলো দাদার। গ্রামের মসজিদে মাইকে আজান পদ্ধতি আসার আগে তার খালি গলায় আজান কয়েক গ্রামে পৌছে যেতো।
জমি ক্ষেতে যারা দিন মজুরের কাজ করতেন তারা কালামিয়ার আসরের আজানের অপেক্ষায় থাকতেন।

: বাংলা মাস আমি তেমন বুঝি না। তবে মাঘের শীতকালীন সময়টা বুঝি।
সেই হিসেবে কোন এক মাঘের শীতের রাতে ফজরের আজান দিতে দাদাজান মসজিদের পানে ছুটছেন। লোকমুখে শোনা কথা যদি সত্যি হয় তাহলে তখন তার বয়স ১০০+ চলে।
গ্রামের বাড়ীর মাটির রাস্তা, হয়তো শীতের তীব্রতায় তার বৃদ্ধ শরীরের নূহ্য, পা’দুখানি শীতে কাপছিলো অথবা শিশির ভেজা পিচ্ছিল মাটির পথে সেই ক্ষীন শক্তির পা’দুখানি তার শরীরকে সামলে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলো।
দাদা’ জান আছড়ে পড়ে কোমড়ের কাছাকাছি কোন এক হাড় ভাংলেন।
এই প্রথম তাকে ডাক্তারের মুখোমুখি হতে দেখলাম। তিনি তার অল্প জানাশোনায় যতদূর জেনেছেন সেই হিসেবে তিনি জানেন এবং মানতেন সকল ক্ষমতা আল্লাহর হাতে, রোগব্যধি তিনিই দেন আবার তিনিই শেফা দান করেন। সুতরাং মানুষের হাতে কোন ক্ষমতা নাই। হয়তো সেই বিশ্বাসের কারনে হোক কিংবা অন্য যে কোন কারনেই হোক তার শরীরে কোন রোগব্যধি ছিলোও না। প্রতি তিনবেলা ভাতের সাথে তিনি প্রচুর পরিমানে শুকনা মরিচের ঝাল খেতেন কিন্তু কোনদিন গ্যাসের ওষুধের নামও দরকার হয়নি।

: বৃদ্ধ বয়সে তার চোখে চশমার ফ্রেম ওঠেনি।কিন্তু তিনি প্রায়শ বলতেন চক্ষে কিচছু দেখি না।
তার এই চোখে কম দেখা নিয়া একটা
মজার কথা বলি :
আমার মাকে তিনি প্রায়ই বলতেন ওবৌ চোক্ষে তো ঠাহর পাই না। মা উত্তরে বলতেন ওয়া কন কি এই বয়সেই (এত কম বয়সে) চোখে ঠাহর পান না এটা কেমন কথা ? বয়স হলে কি করবেন ?
কিন্তু কোন একদিন চিললায়ে বলতে শুনেছি ওবৌ লবনটা বদলে দাও, বলনের বাটিতে পিঁপড়া আছে। হা হা হা।
তার মানে চোখে একটু কম দেখলেও পিঁপড়ার হাঁটাচলা তার নজরে আসতো। কিন্তু চশমা লাগতো না।

খুব সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। তিনি কতটা ধর্মভীরু আর আল্লাহকে ভয় করতেন সেটা বলে বোঝাতে পারবো না।
তবে ভাত খেতে বসলে তার আললাহকে ভয় করার একটা নমুনা পাওয়া যেতো।
তার খাওয়ার ধারে যেতাম না। তবে অন্য রুমে বসে যেটা আওয়াজ পেতাম সেটা এমন।
ভাত খাবার শুরু : প্রথম লোকমা : ও আল্লাহ শুনেছি প্রতিটি দানার তুমি হিসাব নিবা।
মুই এই ভাতের একটা দানার একটা ভাতের হিসাব চাইলে হেয়া দেতে পারমু না আল্লাহ। এই বলে কান্না শুরু।
ভাত খাওয়া শেষে : বিনয়ের সাথে আল্লাহর শুকরিয়া শেষে কত রকম, কত রকম যে ইনিয়ে বিনিয়ে আল্লাহকে বোঝানোর সেকি আকুল চেষ্টা যে; আল্লাহ যদি এতগুলো খাবারের হিসাব শক্ত করে চায় সেই হিসাব দিতে তিনি অপারগ।

: দুলাভাই বিদেশ থেকে ফুজি ব্রানড এর একটা (রিল) ক্যামেরা এনেছিলেন। কি বলবো সেই সময়ে নিজেদের ক্যামেরায় ছবি তোলা, ল্যাবে ধৌত করানো, ভাবা যায় ?
একটা কোডাকের ফিল্মে প্রায় ৪০ টা ছবি আসতো, যা একদিনেই শেষ কৱে ফেলতাম। ফিলম শেষ হয়ে গেলে হুদাই ফ্ল্যাশ মেরে পোজ দিতাম।
কিন্তু দাদা জানের একটা ছবি তোলার জন্য কতোই না চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি রাজী হন নি।

পা-ভাংগার পরে দাদাজান লাঠি ব্যবহার শুরু করলেন। তখনো সেই লাঠি নিয়ে তেড়ে আসতেন ছবি তুলতে চাইলে। কারন ছবি তোলা পাপ এটা তিনি কারো কাছে শুনেছেন এবং হুঁশ থাকতে এটা করবেন না।
তবে নাতী’রা দাদার সাথে দুষ্টমি করবেই। যেভাবেই হোক সামনে থেকে না হোক পিছন থেকে হলেও দাদার একটি ছবি অবশেষে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম।(সেটাই এখন স্মৃতি) এই ছবির কথা দাদা জানতেন না। সুতরাং কোন দোষ-পাপ হয়ে থাকলে সেটাও দাদার জন্য নয়।

দেশ স্বাধীন হবার পরে আমার আব্বার নাকি সৈনিকে চাকুরীর নিয়োগ এসেছিলো। দাদাজানের কাছে যোগদানের অনুমতি পাননি। কারন সরকারী চাকুরীতে ঘুষ, আর ঘুষ হারাম। আব্বা সেই থেকে মসজিদে ইমামতীর চাকুরী নিলেন।
দাদাজানের খুব বেশী দোয়াদরুদ মুখস্ত ছিলো না। তবে নামাজের পরে দোয়া করতেন রাব্বির হামহুমা কামা রাববাইয়ানি সাগিরা । আর পাকা ইমানদার না বানিয়ে যেন আল্লাহ কবরে না নেয় এটা বলতেন।

দাদাজানের মৃত্যুর পরে যে কাফনের কাপড় পড়ানো হবে সেই কাপড় তার মৃত্যুর অনেক আগেই তিনি কিনে এবং নিজের মাপে নিজেই কেটে রেখেছিলেন। কবরের উপরে যেই বাঁশের ছাউনি দেয়া হবে সেটা বাঁশঝাড় থেকে বাছাই করে কিনে রেখেছেন । এক সময় সেই বাঁশ পেকে শুকিয়ে ঘুনে ধরতো। তিনি বলতেন আল্লাহ সবকিছু ভালোৱ জন্যই করেন। খাঁটি মুমিন হবার জন্য তার চেষ্টা, আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভ এবং ক্ষমা প্রার্থনা আরো বাড়িয়ে দিতে লাগলেন।
দাদাজান বাঁশের সরু লাঠিতে ভর করে নতুন বাঁশের সনধানে আবার হেঁটে চলছেন অন্য কোন বাশঝাড়েৱ সনধানে।
: ভোররাতে তার বেশুরো অথচ দরাজ কন্ঠে আজানের পরে “ ও আল্লার বান্দারা ঘুমাইও না আর......... ঘুমের চেয়ে নামাজ ভালো-করো এনতেজার।
আবার কখনো “মাটিয়া বাড়ী মাটির ঘর, মাটি হইবে বিছানা, আইছো একা যাবা একা সংগে কেহ যাবে না” এইসব গজল গেয়ে কান্না করতে শোনা যেতো।

দাদাজান ইদানীং ঘরে বসেই ফজরের নামাজ আদায় করেন। একটি কারনে এই শক্ত কঠিন মানুষটিকে হাউমাউ করে কাঁদতে হয়েছে। বৃদধ পিতাৱ কাধে যুবক ছেলেৱ লাশেৱ উদহৱন হয়ে দাদাজান শোকে নূয়ে পড়েছিলেন।
জুম্মার নামাজ ছাড়া অন্যান্য নামাজ ঘরে বসেই পড়েন। এই প্রথম আমরা তাকে বার্ধক্যের সাথে হারাতে দেখলাম।

ফজরের নামাজের পরে ভোর অবধি খুব কান্নারত থাকেন। সেই সাথে তার দোয়া করার পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সন্তান হারানোর ব্যথায় ব্যথিত বৃদ্ধ শরীর আর যেন চলে না।
ইয়া মাবুদ পিতার কাঁধে সন্তানের লাশের এত বড় ভারী বোঝা তুমি আমাকে এই বৃদ্ধ বয়সে উঠায়ে দিছো। আমি সেই কষ্ট সহ্য করেছি। কিন্তু আমার হাবিব, আমার বাবারে তুমি কষ্ট দিও না।( হাবিব তার বড় ছেলের নাম, আমার বাবা মো: হাবিবুর রহমান)। ইয়া মাবুদ আমি বাবা হয়ে সন্তানের জন্য দোয়া করি ও তোমার মসজিদের খেদমতে মসজিদের মাইক তুলতেগিয়ে একসিডেন্ট করে তোমার কাছে চলে গেছে। তুমি আমার বাজানরে, আমার হাবিবরে কষ্ট দিও না।

দাদাজানের নতুন এই দোয়া বেশীদিন শুনতে পারিনি। আল্লাহ খুব দ্রুত তাকেও ডেকে নিলেন।

: আজকে অনেকদিন পর তাকে স্বপ্নে দেখলাম, যাৱ শোকে একটি শক্ত ইস্পাত চোখের সামনে বাঁকা হতে দেখেছিলাম। দাদাজান যার মৃত্যুর পরে চিললায়ে কেঁদেছে ও বাবোরে...... আমার হাবিব তিনি ছিলেন আমার বাবা আমার আব্বাজান।

Sorry আমি আর লিখতে পারবো না। কারন আমিও প্রচুর ঝাল খেতে পারি এবং ভালোবাসি।
আর আমি এখন চোখে ঝাপসা দেখতেছি। আমার খুব কান্না পাচ্ছে …

আললাহ তাদের উভয়’কে জান্নাতুল ফিরদৌস নসিব এবং সাক্ষাতের সুযোগ দান করুন-আমিন

9 months ago | [YT] | 0

MyWindow মনের জানালা

অনেক সময় দেখবেন দুইটা গ্রুপের মধ্যে মারামারি লাগলে সেটা থামাতে গিয়েও অনেক মানুষ আহত হয়। আর তাদের মধ্যে যদি দুষ্ট বুদ্ধির কেউ থাকে এবং পুরানো শত্রুতা মনে পোষন করা থাকে তাহলে ভিড়ের মধ্যে কাম সেরে নিতেও তারা ভুল করে না। এটাতে বলে back kick ।
আর সব চাইতে বড় কথা হইলো যুদ্ধ
কখনো শান্তি বয়ে আনে না।
পাশাপাশি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধবস্থা কখনোই আমাদের মতো ছোট রাষ্ট্রের জন্য সুখকর হবে না। এবং এটা আমাদের জন্য অশনী সংকেত ছাড়া আর কিছু বয়ে আনবে না। তাই আমাদের এত লাফানোর কোন কারন নাই।

কারন যুদ্ধে কোনদিন কেউ জিতে নাই, যুদ্ধ হয় দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে কিন্তু যুদ্ধ কেবল মাত্র দেশ হারে না।

যুদ্ধে হারে মানুষ এবং লুন্ঠিত হয় মানবতা- আর বিজিত হয় অহংকার আর কিছু না।
পরিশেষে বলবো -
যে বা যারা বলে আমরা তো যুদ্ধ অবস্তায় আছি কিংবা জনগনের ম্যানডেট ছাড়াই যুনি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়- খবর নিয়া দ্যাখেন তার সন্তান অথবা তাদের পরিবারের কেউ এই দেশে থাকে না। এবং তার একাধিক নাগরিকত্ব আছে-

আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহমত করুন।

মোঃ কাওসার আহমেদ
ঢাকা, মে ০৭, ২০২৫

9 months ago | [YT] | 0

MyWindow মনের জানালা

ফিৎনা ছড়াবেন না…

1 year ago | [YT] | 0

MyWindow মনের জানালা

Villege_Natural_Weather

2 years ago | [YT] | 0