আমি যদি কখনো নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হই, তাহলে প্রথমেই একটা ওয়েবসাইট তৈরি করবো। সেই সাইটে প্রতি তিন মাসে কি কি করেছি, সেটার বিবরণ থাকবে। এটা হলো জনগণের কাছে আমার জবাবদিহিতা। রাষ্ট্র থেকে কতো বরাদ্ধ পেয়েছি এবং কতো টাকা সেই নির্বাচনী এলাকার জন্য খরচ হয়েছে, সেটার একটা সহজবোধ্য হিসাব থাকবে।
পাঁচ বছর সময়ে অন্তত পাঁচবার করে নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রামে (বা ওয়ার্ডে) যেতাম। গ্রামে ভিজিটের সময় শিক্ষকদের সাথে, কৃষকদের সাথে যোগাযোগকে প্রাধান্য দিতাম। যে জাতির পেটে ভাত থাকে আর মগজ উন্নত থাকে, সে জাতিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না।
আমার কোন জনসংযোগে ক্লাসের সময় ক্লাস বাদ দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ থাকতো। নিষিদ্ধ মানে নিষিদ্ধ।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় তরুণদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতাম। যেমন, ভাষা শিক্ষা, কম্পিউটার শেখা, গণিত শেখা, প্রয়োগিক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। একটা সমাজে সবাই উচ্চশিক্ষিত হবে না—যেটা খুবই স্বাভাবিক। সুতরাং অন্যদের নিয়ে বিকল্প চিন্তা ও কাজ করতে হবে, যেনো তারা প্রোডাক্টিভ কিছু করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ ছাড়াও নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে, সাহায্য তহবিল তৈরি করতাম। সে টাকায় এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করতাম।
নির্বাচনী এলাকার উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবীদের (দেশ ও দেশের বাইরের) সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রোডাক্টিভ কাজের চেষ্টা করতাম।
নির্বাচিত হওয়ার পর শহরে বসে বসে নিজের ব্যবাসা বা চাকরি নিয়ে ব্যাস্ত থাকতাম না। বরং মানুষ যে ভোট দিয়ে পাশ করিয়েছে, এবং এটাই যে চাকরি/দায়িত্ব সেটাই মাথায় রাখতাম। এটাকেই প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচনা করে দৈনিক ৮-১০ ঘন্টা কাজ করতাম। যেমনটা নিজের চাকরি বা ব্যবসার জন্য করতাম।
না আমি রাজনীতি করি না। নির্বাচনও করছি না। কিন্তু এগুলো আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের কাছে চাওয়া। সবার চাওয়া।
তারা যদি এসব না করে, আপনারা তাদেরকে করতে বাধ্য করবেন। নির্বাচন করা মানে টাকার পাহাড় বানানো না। নির্বাচন করা মানে নিজের ব্যবসাকে, বাণিজ্যকে, কোম্পানিকে বড়ো করা না। নিবার্চন করে জয়ী হওয়া মানে লোকজন নিয়ে শোডাউন করে বেড়ানো না। নির্বাচন একটা ওয়াদা। প্রতিশ্রুতি। —আমি জয়ী হলে আপনাদের জন্য বেশি করে কাজ করবো, সেই ওয়াদা।
সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। …………………….. RAUFUL ALAM
এক লোক বিশাল রচনা লিখে বলছে, হাদি কেউ না, সে কী এমন করেছে? তার অবদান কী?
এই ফালতু কনক্লুশন যে টানতে পারে, তার বাকি যুক্তি নিয়ে আর আগ্রহ থাকে না। যদিও হাদি-হত্যার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আছে ওই আলাপে।
হাদি অভ্যুত্থানের প্রথম সারির কোনো নেতা ছিলেন না। কিন্তু জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা সবসময় প্রাসঙ্গিক রেখেছিলেন হাদি। সারাজীবন ধরে হাদি নানান আন্দোলন সংগ্রাম থাকলেও সেসবের ছবি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে সে কোনো স্বার্থ আদায় করতে যায়নি। সরকারি সুবিধা নিয়ে বা দলের সাথে যুক্ত হয়ে তিনি ট্রাকচ্যুত হননি। হাদি তার নীতিতে অটল থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির কালচার পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন।
৫ আগস্টের পর নায্য কথা সাহসের সাথে সরাসরি উচ্চারণ করছিলেন হাদি। সবাই যখন নানাভাবে আপোস করছিল, তদবির চাঁদাবাজি স্বার্থ সুবিধার ফাঁদে পড়ে গেছিল- হাদি তখন সুস্থধারার মানুষের ভালোবাসার রাজনীতি করছিলেন। জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ইনকিলাব সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইনকিলাব সেন্টার এমনি এমনি জনপ্রিয় হয়নি। সেখানে কেবল ইসলামিক না, দেশাত্মবোধক সংস্কৃতির চর্চা চলত। নানা মত পথের আলাপ আড্ডার স্থান হয়ে উঠেছিল। সেন্টারের সংগ্রহশালা দেখুন, সেখানে কেবল ধর্মীয় বইপত্র ছিল না, নানান মতাদর্শের সাহিত্য সাংস্কৃতিক উপাদান ছিল।
হাদি কঠোর ছিলেন শুধু ফ্যাসিস্ট আর তাদের দালালদের কুযুক্তির ব্যাপারে। হাদিই একমাত্র টু দ্য পয়েন্ট যুক্তি দিয়ে আসল কথাটা মুখের উপরে বলে দিতে পারতেন। চাটুকার গোলামদের ফাউল কথাবার্তার বিপরীতে হাদি সরাসরি সত্য কথাটা বলে দিতেন। এসব বাটপারদের ডিল করার ক্ষেত্রে অনেকসময় রূঢ় ভাষা ব্যবহার করতো হতো হাদির।
হাদির একমাত্র ভুল ধরা হয় 'শাউমা মাউয়া' ছিঁড়ে ফেলার কথা বলায়। এটা কখন বলেছিলেন? যখন গোপালগঞ্জে অভ্যুত্থানের নেতাদের উপরে একদল সন্ত্রাসী হামলা করেছিল। যারা এটাকে বড় অপরাধ বানিয়ে ফেলেছে, তাদের কাছে হামলাটা কিছু না, দোষ হইছে হাদির। এখন হাদিকে খুন করাটাও বড় কিছু না, ওই শাউয়া মাউয়া হচ্ছে বড় অপরাধ!
হাদি সারাজীবন বেগম জিয়ার প্রশংসা করেছেন, জামায়াতের বিপক্ষে সরাসরি কথা বলেছেন, তবুও নাকি হাদি জামায়াত! ঢাকা-৮ এ হাদি নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পরেও জামায়াত প্রার্থী দিয়েছিল ড. হেলাল উদ্দিনকে। আবার শোনা যাচ্ছিল, সাদিক কায়েমও নাকি দাঁড়াবেন ওই আসনে। হাদি তার সকল প্রতিদ্বন্দ্বীকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
সবার প্রতি ইনসাফের কথা বলতেন। কোনো দলে না গিয়ে একাই রাজনীতি করতে গেলেন। মাজারে হামলা, মিডিয়ায় হামলা এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন হাদি। তিনি পড়াশোনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের কথা বলতেন। বিরোধীদেরকে তিনি পরাজিত করতে চাইতেন যোগ্যতায়, সততায়, সাহসে ও নৈতিকতায়। হাদির খুনের পর তার অসংখ্য বক্তব্যের ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। আপনারা পেয়েছেন এমন গভীর প্রজ্ঞাবান দরদী সাহসী কোনো তরুণকে? মানুষ নাকি প্রোপাগান্ডার জোরে হাদিকে ভালোবাসতেছে! কী অদ্ভুত যুক্তি!
ঢাকা-৮ এর প্রচারণার এমন সুন্দর পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারা তৈরি করেছিলেন হাদি; জনগণের সাথে তাদের মতো মিশে সংহতি, সমর্থন, ভালোবাসা ও আস্থার ভিন্ন কালচার তৈরি করেছিলেন। অভ্যুত্থানের প্রধান নেতারা ক্ষমতার অংশীদার ও নানা কারণে বিতর্কিত হলেও হাদি কেবল দিনদিন ভালোবাসাই অর্জন করতেছিলেন, যার কোনো স্বার্থ সম্পদ সুবিধা ছিল না। জনগণ আশা করেছিল, হাদি সংসদে গেলে একজন জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিত তার একটা মডেল হয়ত পাওয়া যেত।
এত সাধাসিধা সহজ সাহসী দরদী জ্ঞানবান একজন মানুষ নাকি এমন কেউ না। তার নাকি কোনো অবদান নাই? তাহলে কারা হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কেউ? যারা প্রচুর ক্ষমতা অর্জন করতে পারে তারা? এই দেশে অবদান রাখতে পারে কারা? যারা হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে একটা কলেজ বানিয়ে যেতে পারে তারা?
হাদি আসলেই কেউ না। তার কোনো আদর্শ নাই, অবদান নাই। যে বিক্রি হয় না, যাকে আপস করানো যায় না- সে এমন কে? আমাদের আদর্শবানদের উচিত হচ্ছে- সকল অন্যায় অত্যাচার সয়ে, সিস্টেমের সাথে আপস করে, দালালি চাটুকারিতা করে, দুর্নীতি আর অবৈধ সুবিধা নিয়ে একটা আরামদায়ক লাইফ লিড করা।
এক, বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলেছে। তবে সনদের সবকিছু না, যেই অংশে ঐক্যমত্য হইছে, শুধু সেইটুকু। যেমন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিএনপি পিআর পদ্ধতি করবে না; বরং নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করবে। উচ্চ কক্ষে পিআর থাকলে একটা সম্ভাবনা থাকে যে, কোন দল সরকার গঠন করলেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। বরং অন্যান্য দলের সাথে তার আলাপ আলোচনা করতে হবে। কিন্তু, নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চ কক্ষ বণ্টন হইলে উচ্চকক্ষ আলাদা করে কোন চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্স তৈরি করবে না।
দুই, জুলাই সনদে যে সকল সংস্কার প্রস্তাব নেয়া হইছে, তার মধ্যে দুইটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক, উচ্চ কক্ষে পিআর, যাতে করে সংবিধান সংশোধন করতে হলে, সরকারি দল অন্যান্য দলের সাথে আলাপ আলোচনা করতে বাধ্য হয়। দুই, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদ যেমন নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পিএসসি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের আলাপ আলোচনা করে একমত হইতে হবে। বিএনপির ইশতিহারে এই দুইটা জিনিসই মিসিং। উচ্চকক্ষে তারা নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে আসন বরাদ্দ করবে। নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু জুলাই সনদ অনুসারে তারা আইন প্রণয়ন করবে। কিন্তু, অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা তাদের মত করে আইন প্রণয়ন করবে। কারণ জুলাই সনদের এই জায়গাতে তাদের আগে থেকে নোট অফ ডিসেন্ট দেয়া আছে।
তিন, তার মানে দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে পরিবর্তন জুলাইয়ের পরে আমরা চাইতেছি, বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই নাই। একটা কাঠামোগত পরিবর্তন তারা চায় না। বিএনপি মনে করে, সিস্টেমে কোন প্রব্লেম নাই। প্রব্লেম ছিল শুধু ব্যক্তি হাসিনার। হাসিনার পরিবর্তে তারা নিজেরা ক্ষমতায় আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সিস্টেমকে খুব বেশি পরিবর্তন না করলেও হবে।
চার, কিন্তু সিস্টেমের পরিবর্তন না করলে বড়জোর যেইটা হবে, সেইটা হইল বিএনপি শুধু "কিছুটা ভালো আওয়ামী লীগ" হবে। এর বেশি কিছু না। বরং সময়ের সাথে সাথে তাদেরও খারাপের দিকে পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা বাড়বে। বিএনপির এই রাজনৈতিক পজিশন জনস্বার্থবিরোধী, জুলাইয়ের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বিরোধী, এবং বাংলাদেশের রাজনীতির একটা আমূল পরিবর্তনের বিরোধী।
পাঁচ, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, আমাদের তরুণ ভাই-বোনদের রক্তের মধ্য দিয়ে, আমাদের দেয়ালে দেয়ালে যে বিপ্লবের আগমনী গান লেখা হইছে, বিএনপি এই লেখা পড়তেও পারতেছে না, বুঝতেও পারতেছে না। বিএনপি যদি স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি না দেয় যে, "হ্যাঁ" ভোট জিতলে নিজেদের নোট অফ ডিসেন্ট অতিক্রম করে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, তাহলে বিএনপির রাজনীতির বিপক্ষে দাঁড়ানোই জুলাইয়ের সত্যিকারের স্পিরিট। জুলাইয়ের শহীদদের শপথ, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটা সত্যিকারের গুণগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাদে, আমাদের আর কোন রাজনীতি নাই সামনের দিনে। এই আকাঙ্ক্ষার সাথে যেই রাজনীতির বিরোধিতা থাকবে, তার সাথে আমাদের বিরোধিতা থাকবে। এইটা এই প্রজন্মের "নো কম্প্রোমাইস জোন"। রেড লাইন।
যমুনার সামনে না হয় ১৪৪ ধারা ছিল। শাহবাগে কি কোনো ১৪৪ ধারা ছিল? তাহলে শাহবাগের জমায়েতে কেন এমন ব্রুটাল এট্যাক চালিয়েছে পুলিশ?
আন্দোলনকারী সন্দেহে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে পেটানো, আন্দোলনকারী সন্দেহে ব্যবসায়ীকে পেটানো, 'জুলাই নামা' বলে হামলা চালানো, 'আয় হাদীর লাশ নিয়ে যা' বলে উপহাস করা, আন্দোলনকারীদেরকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন, একজন আন্দোলনকারীকে মাটিতে ফেলে কয়েকজন পুলিশ মিলে বুট দিয়ে পাড়ানো, আন্দোলনকারী সন্দেহে মোবাইল চেক করা - এগুলো কি সমানুপাতিক বলপ্রয়োগ? এগুলো স্পষ্টতই মনের ভেতর পুষে রাখা জ্বালার বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশ ইচ্ছাকৃত এই ঘটনাকে বাড়তে দিচ্ছে এবং সংক্ষুদ্ধ জনতাকে উত্তেজিত হতে প্রভোক করছে। মনে হচ্ছে এই পেটোয়া পুলিশই (যাদের অনেকেই পুলিশ লীগ) ১২ তারিখে নির্বাচন চায় না। এরা কি ইউনুসের অধীন আছে? নাকি অন্য কোনো কেবলার নিয়ন্ত্রণাধীন? এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। নির্বাচন ১২ তারিখেই হতে হবে। আজকে প্রশাসনের যারা অপেশাদারি আচরণ করছে, তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আজকের পুলিশ লীগের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল জনগণকে জানাতে হবে।
এপস্টেইন ফাইল একটি কেলেঙ্কারি নয়; এটি সভ্যতার আয়না। এই আয়নার মাধ্যমে আমরা পশ্চিমা সভ্যতার বিভৎস চেহারাটা আবারো দেখে ফেললাম।
মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা ও উদারনীতির দাবিদার পশ্চিমা বিশ্ব আসলে কী গভীর নৈতিক অধঃপতনের মধ্যে নিমজ্জিত, তার এক মর্মন্তুদ দলিল এই ফাইল। রাষ্ট্রনায়ক, শিল্পপতি, ক্রীড়া ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সংস্কৃতির নামকরা মুখগুলো—যাদেরকে অনেকে সম্মান ও অনুসরণ করে— শিশু পা*চা*র, যৌ*ন নি*র্যা*তন, মা*নব**মাং*স ভ*ক্ষ*ণের অভিযোগসহ জঘন্য ও বীভৎস সব অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।
পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে চরম ভোগবাদ ও নৈতিকতাহীনতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এরই পরিণতি হিসেবে আমরা দেখি পারিবারিক বন্ধনের ক্ষয়, লজ্জা-সম্মানবোধের অবলুপ্তি এবং এক অন্ধকার বাণিজ্যের জগৎ, যার প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে। আল্লাহর ভয়হীন সমাজ যত ঝকঝকে তকতকে হোক, সুযোগ থাকলে ভোগবাদী মানুষ ধীরে ধীরে কোন স্তরে পৌঁছুতে পারে, এই ঘটনা তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।
তবে এপস্টেইনের ঘটনাটাকে স্রেফ বিকৃত মানসিকতা থেকে উৎসারিত বলা কঠিন। খোলা চোখে যেগুলোকে বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ বলে মনে হয়, সেগুলো পরিকল্পিতভাবে শয়তানতুষ্টির প্রচেষ্টার রিচুয়াল। এত বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্রে ও ধারাবাহিকভাবে এমন জঘন্য পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, একে কেবল মানসিক বিকৃতি বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি এতে শয়তানি উপাসনা ও আরাধনার এক সুসংগঠিত রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পশ্চিমারা আমাদের ঈমান-আমল ও দ্বীনি রিচুয়াল নিয়ে উপহাস করে মূলত আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তি দুর্বল করেছে। পক্ষান্তরে তারা তাদের স্যাটানিক রিচুয়ালিটি ঠিকই বজায় রেখে চলছে।
এই অন্ধকার বাস্তবতার বিপরীতে ইসলাম মানুষকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে বিবেক, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। ইসলামে নারী সম্মানিত, শিশু সুরক্ষিত, পরিবার পবিত্র দূর্গ। ইসলামে নৈতিকতা রক্ষার জন্য রয়েছে আইনি ও আধ্যাত্মিক উভয় বেষ্টনী।
এই ঘটনা আমাদের সামনে সভ্যতার সংজ্ঞা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। আমরা কোন সংস্কৃতি বেছে নেব—যে সংস্কৃতিতে ভোগই শেষ কথা, নাকি যে সংস্কৃতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে? আমরা কি স্যাটানিক রিচুয়াল গ্রহণ করবো, নাকি মহান আল্লাহর সাথে পবিত্র সম্পর্ক গভীর করার পথে হাঁটব?
নিচের লিষ্টের ৫-৭ টা তোমার মধ্যে যদি থাকে, আজীবন টানাটানির মধ্যে চলতে হবে। চেক করে দেখো কয়টা আছে।
১. যারা রেগুলার বাইরে খায়, বাইরে যেতে না পারলে বাসায় ফুড ডেলিভারি নেয়: (মাসে ২-৪ বার হলে তেমন সমস্যা না )
২. ছোটখাটো খরচকে “তেমন পাত্তা না দেয়া” ও এইটা তো মাত্র ৫০ টাকা, এইখানে জাস্ট ২০০ টাকা, এইরকম ছোটখাটো খরচ প্রতিদিন ২-৩ টা হতে থাকলে, টাকা যে কোন দিক দিয়ে লিক হয়ে যাচ্ছে টেরই পাওয়া যায় না।
৩. নিয়মিত দাওয়াত থাকলে: দাওয়াতের গিফট, যাওয়া আসার খরচ, দাওয়াতে যাওয়ার জন্য জামা কাপড়। মাস শেষে ভালো একটা অংশ চলে যায়। . ৪. ধার একবার নেয়া শুরু করলে দেখা যায় প্রতিমাসেই ধার লাগে। আর যে ধার দেয় সে বেচারা ধারের টাকা উঠতে না পেরে ডাবল বিপদে থাকে।
৫. একবার ক্রেডিট কার্ড বা লোনের চক্করে পড়লে, এইটা থেকে বের হওয়া টাফ।
৬. ধূমপান বা নেশা বা বাজে স্বভাব এমন পাবলিকরা বেশিরভাগই টানাটানির মধ্যে থাকে। আর বাজে নেশার মধ্যে পড়লেতো টাকা পয়সাও শেষ, জীবনও শেষ। . ৭. অনলাইন বা অফলাইনে যারাই জুয়ার সাথে জড়িয়ে গেছে, তারাই সব হারাইছে। পেটেভাতেও চলতে পারে না।
৮. একবার দোকানে বাকি খাওয়া বা বাকি সদাই নেয়া শুরু করলে, সেই চক্কর থেকে দোকানদার এবং খরিদ্দার দুইজনেই বের হতে পারে না।
৯. একবার বেতন পাওয়ার আগে কারো কাছ থেকে ধার নেয়া শুরু করলে বা খরচ করা শুরু করলে মাসের পর মাস এই সাইকেল থেকে মুক্তি নাই। তখন মাসের শেষ ২০ দিন যায় টাকার সাথে যুদ্ধ করে। . ১০. ফ্যামিলি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির জন্য আগে থেকে টাকা জোগাড় করে না রাখলে শেষ পর্যন্ত ঋণ নিতে হয়। সেই ঋণ শোধ করতে ২-৩ বছর টানাটানি চলতে থাকে।
১১. বছরে দুই একটা ঘুরাঘুরি ঠিকাছে। কিন্তু যারা মাসে মাসে এইখানে না হয় ঐখানে যায়। তাদের হাতে ১০ টাকা জমলে ৫০ টাকার একটা ট্যুর দিয়ে ফেলে। এদের জীবন পেটেভাতে আর রাস্তাঘাটেই চলতে থাকবে।
১২.বিয়ে, বাড়ি করা, দেশের বাইরে যাবে এইসব ফিউচারের মেগা ইভেন্টের জন্য যত বাজেট করবে, জীবনেও সেই বাজেটে শেষ হবে না। তাই এইগুলার জন্য বাজেট যত তার দ্বিগুণ সেইভ না করলে, বিপদে পড়বে। . ১৩. বাজারের লিস্ট স্ট্রিক্ট না থাকা বা উইন্ডো শপিং। কেউ কেউ আছে, কিনতে যায় একটা জিনিস, কিনে আসে তিনটা। বা দোকানদার আরেকটু ভালো, আরেকটু লোভনীয় জিনিস দেখিয়ে বাজেটের বাইরের জিনিস খসায় দেয়। আর তোমার পকেট খালি হয়ে যায়।
১৪. একবার অনলাইনে কেনার অভ্যাস শুরু করে দিলে দেখা যায়, হুদাই জিনিস কিনে। দরকারের চাইতে, অল্প দরকারি বা অদরকারি জিনিস কিনে। . ১৫. ডিস্কাউন্টে জিনিস কেনা মানে, জিনিস কেনা না। ফেইক একটা ডিসকাউন্ট কেনা। অর্থাৎ তুমি কখনোই ২০-৩০% ডিসকাউন্ট পাও না। বরং ৭০-৮০% টাকা বিনা কারণে খসাও। সো, ব্যাপার হবে-- আমার জিনিস একান্তই কেনা লাগলে কিনবো-- তখন কূপন পাইলে ইউজ করবো না পাইলে ফুল প্রাইসে কিনবো। এতে সাময়িক খরচ একটু বেশি হলেও ওভারঅল খরচ অনেক কম হবে।
১৬. ফ্রী ট্রায়াল, মাসিক সাবস্ক্রিপশন একটা ট্র্যাপ। মানুষের আলসেমি ও ভুলে যাওয়ার কারণে হুদাই হুদাই টাকা গচ্ছা যেতে থাকে।
১৭. বেশিরভাগ সময় ব্র্যান্ডের জিনিস এর চাইতে ভালো জিনিস বা কাছাকাছি কোয়ালিটির জিনিস অনেক কম দামে পাওয়া যায়। আমি সস্তায় খারাপ জিনিস কেনার কথা বলতেছি না। বরং সিমিলার কোয়ালিটির কম ব্র্যান্ড বা নন-ব্রান্ডের জিনিসের কথা বলছি।
১৮. অন্যদের চাইতে নিজেকে বড় দেখানোর জন্য টাকা খরচ করা মধ্যবিত্তদের জন্য বোকামি। বড়লোক যাদের অসীম টাকা আছে তাদের হিসাব আলাদা। .
১৯. একটা ফোন ভালোই চলতেছে হুদাই হুদাই আপগ্রেড করা। হয়তো দুইটা ফিচার একটু কম ভালো সেটার জন্য ঝাঁপ দিয়ে, টাকা জোগাড় করে কিনে ফেলা।
২০. রিফান্ড, বোনাস বা ক্যাশব্যাককে “ফ্রি টাকা” মনে করা।
২১. মাসিক খরচ ট্র্যাক না করা বা অপটিমাইজ না করা . ২২. ইনকামের মিনিমাম ২০% আর সম্ভব হলে ৩০–৫০% সেভ না করা
২৩. বেতন বাড়ালেই আর টাকা পয়সার টানাটানি থাকবে না, মনে করা। ২৪. পেটেভাতে চলতে পারাও কিন্তু পেটেভাতে চলতে না পারার চাইতে ভালো। সেটা নিয়ে শুকরিয়া না করা। ২৫. ইনকাম বাড়ানোর চাইতে খরচ কমানের দিকে বেশি ফোকাস করা
বাংলাদেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন আসিফ মুক্তিদির। সেই সময় মনে হয়েছিল, উচ্চশিক্ষার পথ হয়তো সেখানেই শেষ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ব্যর্থতাই হয়ে উঠেছে নতুন সম্ভাবনার সূচনা। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লীগভুক্ত কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেইলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন।
ইন্টারমিডিয়েটের পর পরিবারের প্রত্যাশা ছিল—ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা। সে লক্ষ্যেই ঢাকায় এসে কোচিং শুরু করেন। তবে প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। একের পর এক পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই সুযোগ হারান তিনি।
ফল প্রকাশের প্রতিটি দিন ছিল হতাশার। মেরিট লিস্টের শেষ দিক থেকে নাম খোঁজার সেই অপেক্ষা বারবারই ভেঙে দিয়েছে স্বপ্ন। বন্ধুদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু হলেও আসিফ তখন নিজের জায়গা খুঁজছিলেন। সামাজিক চাপ ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পরিবারকেও।
এই ব্যর্থতার পর জীবনের গতিপথ বদলে যায়। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবর্তে স্বাস্থ্যখাতে আগ্রহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত একজন পেশাজীবী হিসেবে। বর্তমানে তিনি একটি প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিকে ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছেন।
রোগী দেখার মাঝেই আসে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ভর্তির ইমেইল। যে মানুষটি একসময় দেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি, আজ তিনি আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।
আসিফ মুক্তিদিরের এই পথচলা মনে করিয়ে দেয়—ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থতা কখনো জীবনের শেষ নয়। সময়, ধৈর্য আর সঠিক সিদ্ধান্ত একজন মানুষকে সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
তোমরা যারা ২৫-৩০ বা তার চেয়ে কম বয়সী তাদের জন্য কিছু কথা:
১) জীবনে যখন যেখানে আনন্দ করা সম্ভব, করো। পরিবারের সাথে, বন্ধুদের সাথে, প্রিয় মানুষের সাথে। যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ। বয়স যতো বাড়বে ততো রেসপনসেবলিটি আর পারিপার্শ্বিকতার চিপায় তুমি চাপা খেতে খেতে তিতা হয়ে যাবা, 'পরে'র জন্য ফেলে রাখা কিছুই করার সময়/সুযোগ পাবা না।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেখবা আনন্দ একইসাথে রেয়ার এবং এক্সপেন্সিভ হয়ে যায়। সময় থাকতে আনন্দ করো যেনো পরে পস্তাতে না হয়।
২) তুমি যদি নন-বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের হও তাহলে বেসিক ফাইনান্স, এ্যাকাউন্টিং এগুলা শেখা শুরু করো। ইউটিউব, অনলাইন কোর্স যেখান থেকে পারো শেখো, এখন রিসোর্সের অভাব নাই। পুরা দুনিয়া চলে যে টাকার উপরে, সেই টাকা কিভাবে চলে সেটা জানা খুবই জরুরি। না, বড়লোক হওয়ার জন্য না, তুমি যেনো ফাইনান্সিয়ালি ভুল ডিসিশান নিয়ে অথবা কোনো কিছু ডিসাইড করতে না পেরে লংরানে মারা না খাও সেজন্যই বেসিক বিজনেস রিলেটেড নলেজ থাকা খুব জরুরি।
৩) যদি টক্সিক রিলেশনে থাকো(এবং সেটা বুঝতে পারো!) তাহলে যতো দ্রুত পারো সেটা থেকে বের হও। এই রিলেশনশিপ যে খালি প্রেমিক প্রেমিকার তা না, এটা বন্ধু বান্ধবের হতে পারে, স্বামী স্ত্রীর হতে পারে, পরিবারের বা আশেপাশের কারোর সাথে হতে পারে।
তোমার যতো বয়স বাড়বে ততো বুঝতে পারবা টক্সিক রিলেশনশিপ লং রানে একটা জিনিসই দেয়, ট্রমা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই ট্রমার সাথে যুক্ত হয় মেন্টাল স্ট্রেস। যতো বেশি টানবা, 'দেখি না আরেকটু' মনে করবা; ট্রমা আর স্ট্রেস ততো বাড়বে।
৪) বন্ধু হয় স্কুল/কলেজ পর্যন্ত, ব্যাস। এরপর তোমার ক্লোজ রিলেশন, ভালো রিলেশন হতে পারে কারোর সাথে কিন্তু সেখান থেকে বন্ধু হওয়া সম্পর্কের পরিমাণ অনেক কম, অধিকাংশ সময় শূন্য। বন্ধুত্ব খুব দামি জিনিস, এটা সবার সাথে হয় না, খুব অল্প কিছু মানুষের সাথে হয়।যে সবাইকে বন্ধু বলে সে আসলে কারোর বন্ধু না এবং তার আসলে কোনো বন্ধু নাই।
বন্ধুত্বকে সম্মান দিতে পারা, সম্পর্ককে ভ্যালু দেয়া মানুষ সময়ের সাথে সাথে তোমার জীবনে ব্লেসিং হিসাবে থাকবে। অন্যদিকে সেল্ফ রেসপেক্টহীন, বেহায়া টাইপের মানুষকে বন্ধু হিসাবে রাখলে ৩ নাম্বারে বলা কেইস হবে, হোং মাং সাং খাবা নিশ্চিত।
৫) সঞ্চয় করা এবং সেটাকে বাড়ানোর উপায় শেখো। বাঙ্গালি মিডলক্লাস সঞ্চয় বলতে শিখায় টাকা ব্যাংকে/আলমারিতে রাখা। এইটাই একমাত্র সঞ্চয়ের উপায় না এবং সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ উপায়গুলার একটা। টাকা হাতে রাখা জরুরি তবে সব টাকা হাতে রাখার যে মেন্টালিটি আমাদের হতদরিদ্র প্যারেন্টস শেখায় সেটা আমাদের সবচেয়ে খারাপ যে জিনিসটা দেয়, সেটা হলো বিনিয়োগ করার ব্যাপারে ভয়।
আমরা ছোট থেকে এই ভয় নিয়ে বড় হই এবং যখন নিজেদের হাতে টাকা আসে তখন এই ভয় অনেক কাজ করতে, সুযোগ নিতে বাধা দেয়। ২ নাম্বার পয়েন্টে বলা শিক্ষাগুলা তোমাকে এই ধরনের পরিস্থিতিতে না পড়তে হেল্প করবে।
৬) বেসিক সায়েন্স (ম্যাথমেটিকস, ফিজিক্স, বায়োলজি), জিওগ্রাফি, ফাইনান্স(আবারো!!), জেনারেল নলেজ এইগুলা একজন সাধারণ বুদ্ধিমান মানুষ হওয়ার জন্য জানা থাকা জরুরি। জেনারেল নলেজ থাকলে অনেক কিছুর কনটেক্সট বোঝা সহজ হয়ে যায়, অনেক ব্যাপারের সহজে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এর সাথে ক্রিটিকাল থিংকিং, লজিকাল রিজনিং সম্পর্কে জানা এবং এগুলা আয়ত্ব করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা জরুরি। এইসব জিনিস যে জীবনে চলার পথে কতো জরুরি সেটা হয়তো সাদা চোখে দেখা যায় না কিন্তু এগুলা করতে না পারলে পদে পদে ধরা খাওয়ার চান্স আছে।
তার সাথে অতি অবশ্যই এমপ্যাথি শেখা। অনেকেই সিম্প্যাথি আর এমপ্যাথিকে এক করে ফেলে। এই দুইটা জিনিস কি, এদের মধ্যে পার্থক্য কি, দুইটার কোনটা কখন কোথায় কিভাবে দেখাতে হবে সেটা বোঝা জরুরি।
৭) তুমিই একমাত্র মানুষ না যে কষ্টে আছে, আশেপাশে যাদের দেখতেছো হাসিমুখ নিয়ে আছে, এদের সবাই কোনো না কোনো কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তুমিই একমাত্র না যার ব্রেকাপ হইছে, যার রেজাল্ট খারাপ হইছে, মা/বাপ ঝাড়ি দিছে, অফিসে এ্যাপ্রেইজাল আটকায়ে গেছে, চাকরি পেতে পেতেও পাওনি। তুমি অন্য সবার মতোই, আমরা সবাই সবার মতোই। খালি আমাদের কষ্টের বর্ণ, গন্ধ আলাদা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কষ্টের লিস্ট বড় হবে, ছোট না।
আরেকটা জিনিস উপলব্ধি করতে পারা খুব জরুরি। তোমার দু:খ একান্তই তোমার ব্যক্তিগত, এটা বাইরের কেউ বুঝবে না, বুঝাতেও যেয়ো না। তোমার দু:খ তোমাকে একা হ্যান্ডল করতে হবে এটা মেনে নাও, জীবন সহজ হবে।
৮) যতো বড় হবা, রেসপনসেবলিটি ততো বড় হবে। এমন না যে তুমি পালায়ে বাচতে পারবা, রেসপনসেবলিটি যেটা ঘাড়ে আসার সেটা আসবেই, টুডে অর টুমরো। তারপর একসময় এমন বয়সে আসবা যখন দেখবা আশেপাশের কাছের মানুষজন এক এক করে যাওয়া শুরু হবে। কয়েক দিন/মাস/বছর পর যখন বাড়ি যাবা; দেখবা আজ ও অসুস্থ, কাল সে নাই।
বড় হওয়া মানে লেখাপড়া করে চাকরি বাকরি করে সংসার করা, বাচ্চা পয়দা করা না। বড় হওয়া মানে নিজের আপনজনদের চোখের সামনে অসুস্থ হতে দেখা, এক এক করে চলে যেতে দেখা, 'কিছু কিছু নাম্বার থেকে আসবে না কোনো ফোন' বুঝতে পারা।
৯) পাওলো কোয়েলহো'র একটা কথা আছে যে তুমি যদি কোনো কিছু মন থেকে চাও তাহলে পুরা দুনিয়া তোমাকে সেটা এনে দেয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। হ, আমি 'আগার কিসি চিজ কো দিল সে চাহো...." ডায়লগটা জানি। ঐটা শাহরুখ খানের কথা না(সরি ফর দ্যা হার্টব্রেক), কোয়েলহোর কথার হিন্দি তরজমা।
তো যা বলছিলাম, এইটা একটা বাখওয়াজ, বাংলায় বললে 'বা*র আলাপ'! তুমি দিল সে চাও আর লান্ড সে, যা চাবা তার সবই পাবা না। বরং বাস্তবতা উল্টা, জীবনে যা চাও তার ম্যাক্সিমামই পাবা না। আবার এমন অনেক কিছু পাবা যেটা কখনোই চাও নাই। জীবন চুতিয়া, ও তোমাকে বাকে বাকে সারপ্রাইজ দিবে। বয়স যতো বাড়বে, তুমি অভ্যস্ত হয়ে যাবা, সারপ্রাইজে অবাক হওয়ার চান্সও ততো কমবে।
জীবন ফেইরিটেল না, কারান জোহরের মুভি না। জীবন মোটাদাগে অনুরাগ কাশ্যাপের মুভি, কিছু কিছু সময় কুবরিকের; কড়া, সাসপেন্সফুল।
১০) শুনতে অবাক লাগতে পারে কিন্তু তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় ইনভেস্টমেন্ট গাড়ি, বাড়ি না; তোমার লাইফ পার্টনার। তোমার পরিবার চুজ করার সুযোগ উপরওয়ালা তোমাকে দেয় না, লাইফ পার্টনার চুজ করার সুযোগ দেয়। এইটা সিনসিয়ারলি চুজ কইরো।
এক বয়সে মনে হবে চেহারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারপর আস্তে আস্তে মনে হবে চেহারা দিয়ে তো খালি হবে না; মানুষটার কথাও বলতে পারতে হবে, আমার কথা বুঝতে পারতে হবে, আমাদের কথা বলার মতো কথা থাকতে হবে। আরও পরে গিয়ে মনে হবে আমার পরিবারকে আপন ভাববে, আমাদের বাচ্চার জন্য ভালো প্যারেন্ট হতে পারবে এমন মানুষ দরকারি। একটা সময় বুঝতে পারবা যে চেহারা আসলে খুবই নগণ্য একটা ফ্যাক্টর, মেন্টাল ম্যাচিং না হলে বাকি সব অর্থহীন।
তোমার পার্টনার ভালো হলে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং ঠিক থাকলে বাকিসব ম্যানেজ করা যায় লাইফে। উল্টাটা হলে মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, গাড়ি সব তুচ্ছ হয়ে যায়। যে মানুষ ঘরে ফিরে শান্তি পায় না তার জন্য আলাদা দোজখের দরকার নাই, জীবনই তার জন্য নরক।
দুই বছর চালাবা যে মোবাইল সেইটা চুজ করতে যে পরিমাণ রিসার্চ করো তার হাজারগুণ বেশি রিসার্চ করা দরকার জীবনসঙ্গী চুজ করার জন্য। এইটা লং-টার্ম খেলা, ম্যারাথন; স্প্রিন্ট না। এইখানে চয়েজে ভুল করলে জীবন মেক সিওর করবে তুমি যেনো বুঝতে পারো যে তুমি চুতিয়া!!
১১) পরিবার পরিবারই। যতোদিন পরিবারের সাথে আছো, যতো বেশি পারো সময় কাটাও। যতো বড় হবা; তোমার নিজের জগত হতে থাকবে, পরিবারের সাথে না চাইলেও দুরত্ব হবে এবং সেটা সময়ের সাথে বাড়বে। তারপর এক সময় দেখবা তুমি বাড়িতে নাই, আজ বাবা নাই, কাল মা অসুস্থ, পরশু ভাই/বোন চলে যাবে দূরে বা বিদেশ। ইদে চান্দে ঐ বাড়িতেই যাবা অথচ কথা বলার কেউ থাকবে না।
শুক্রবারের দিন জুম্মার নামাজের পর সবাই একসাথে বসে ভাত খাওয়া বা এক রুমে পরিবারের সবাই মিলে হাসি তামাশা করা যে কি পরিমাণ দামি সেটা সময় তোমাকে বোঝাবে এবং খুব রূঢ়ভাবে বোঝাবে। তাই সময় থাকতে পরিবারের সাথে সময় কাটাও যতো বেশি পারো।
এরপর একদিন একটা কল আসবে, অপরপ্রান্ত থেকে একজন বলবে 'বাড়ি আসো, অমক আর নাই'! এই যে অমকের না থাকা, এই যে চিরস্থায়ী শুন্যতা, এই যে খবরটা শোনার পর দীর্ঘ যাত্রা প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার জন্য, 'কতো কথা বলার ছিলো অথচ বলা হলো না'র হাহাকার নিয়ে বাকিজীবন বেচে থাকা -
Md Faiz Ullah
1 day ago | [YT] | 17
View 0 replies
Md Faiz Ullah
আমি যদি কখনো নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হই, তাহলে প্রথমেই একটা ওয়েবসাইট তৈরি করবো। সেই সাইটে প্রতি তিন মাসে কি কি করেছি, সেটার বিবরণ থাকবে। এটা হলো জনগণের কাছে আমার জবাবদিহিতা। রাষ্ট্র থেকে কতো বরাদ্ধ পেয়েছি এবং কতো টাকা সেই নির্বাচনী এলাকার জন্য খরচ হয়েছে, সেটার একটা সহজবোধ্য হিসাব থাকবে।
পাঁচ বছর সময়ে অন্তত পাঁচবার করে নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রামে (বা ওয়ার্ডে) যেতাম। গ্রামে ভিজিটের সময় শিক্ষকদের সাথে, কৃষকদের সাথে যোগাযোগকে প্রাধান্য দিতাম। যে জাতির পেটে ভাত থাকে আর মগজ উন্নত থাকে, সে জাতিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না।
আমার কোন জনসংযোগে ক্লাসের সময় ক্লাস বাদ দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ থাকতো। নিষিদ্ধ মানে নিষিদ্ধ।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় তরুণদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতাম। যেমন, ভাষা শিক্ষা, কম্পিউটার শেখা, গণিত শেখা, প্রয়োগিক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। একটা সমাজে সবাই উচ্চশিক্ষিত হবে না—যেটা খুবই স্বাভাবিক। সুতরাং অন্যদের নিয়ে বিকল্প চিন্তা ও কাজ করতে হবে, যেনো তারা প্রোডাক্টিভ কিছু করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ ছাড়াও নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে, সাহায্য তহবিল তৈরি করতাম। সে টাকায় এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করতাম।
নির্বাচনী এলাকার উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবীদের (দেশ ও দেশের বাইরের) সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রোডাক্টিভ কাজের চেষ্টা করতাম।
নির্বাচিত হওয়ার পর শহরে বসে বসে নিজের ব্যবাসা বা চাকরি নিয়ে ব্যাস্ত থাকতাম না। বরং মানুষ যে ভোট দিয়ে পাশ করিয়েছে, এবং এটাই যে চাকরি/দায়িত্ব সেটাই মাথায় রাখতাম। এটাকেই প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচনা করে দৈনিক ৮-১০ ঘন্টা কাজ করতাম। যেমনটা নিজের চাকরি বা ব্যবসার জন্য করতাম।
না আমি রাজনীতি করি না। নির্বাচনও করছি না। কিন্তু এগুলো আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের কাছে চাওয়া। সবার চাওয়া।
তারা যদি এসব না করে, আপনারা তাদেরকে করতে বাধ্য করবেন। নির্বাচন করা মানে টাকার পাহাড় বানানো না। নির্বাচন করা মানে নিজের ব্যবসাকে, বাণিজ্যকে, কোম্পানিকে বড়ো করা না। নিবার্চন করে জয়ী হওয়া মানে লোকজন নিয়ে শোডাউন করে বেড়ানো না। নির্বাচন একটা ওয়াদা। প্রতিশ্রুতি। —আমি জয়ী হলে আপনাদের জন্য বেশি করে কাজ করবো, সেই ওয়াদা।
সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
……………………..
RAUFUL ALAM
1 week ago | [YT] | 12
View 0 replies
Md Faiz Ullah
এক লোক বিশাল রচনা লিখে বলছে, হাদি কেউ না, সে কী এমন করেছে? তার অবদান কী?
এই ফালতু কনক্লুশন যে টানতে পারে, তার বাকি যুক্তি নিয়ে আর আগ্রহ থাকে না। যদিও হাদি-হত্যার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আছে ওই আলাপে।
হাদি অভ্যুত্থানের প্রথম সারির কোনো নেতা ছিলেন না। কিন্তু জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা সবসময় প্রাসঙ্গিক রেখেছিলেন হাদি। সারাজীবন ধরে হাদি নানান আন্দোলন সংগ্রাম থাকলেও সেসবের ছবি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে সে কোনো স্বার্থ আদায় করতে যায়নি। সরকারি সুবিধা নিয়ে বা দলের সাথে যুক্ত হয়ে তিনি ট্রাকচ্যুত হননি। হাদি তার নীতিতে অটল থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির কালচার পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন।
৫ আগস্টের পর নায্য কথা সাহসের সাথে সরাসরি উচ্চারণ করছিলেন হাদি। সবাই যখন নানাভাবে আপোস করছিল, তদবির চাঁদাবাজি স্বার্থ সুবিধার ফাঁদে পড়ে গেছিল- হাদি তখন সুস্থধারার মানুষের ভালোবাসার রাজনীতি করছিলেন। জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ইনকিলাব সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইনকিলাব সেন্টার এমনি এমনি জনপ্রিয় হয়নি। সেখানে কেবল ইসলামিক না, দেশাত্মবোধক সংস্কৃতির চর্চা চলত। নানা মত পথের আলাপ আড্ডার স্থান হয়ে উঠেছিল। সেন্টারের সংগ্রহশালা দেখুন, সেখানে কেবল ধর্মীয় বইপত্র ছিল না, নানান মতাদর্শের সাহিত্য সাংস্কৃতিক উপাদান ছিল।
হাদি কঠোর ছিলেন শুধু ফ্যাসিস্ট আর তাদের দালালদের কুযুক্তির ব্যাপারে। হাদিই একমাত্র টু দ্য পয়েন্ট যুক্তি দিয়ে আসল কথাটা মুখের উপরে বলে দিতে পারতেন। চাটুকার গোলামদের ফাউল কথাবার্তার বিপরীতে হাদি সরাসরি সত্য কথাটা বলে দিতেন। এসব বাটপারদের ডিল করার ক্ষেত্রে অনেকসময় রূঢ় ভাষা ব্যবহার করতো হতো হাদির।
হাদির একমাত্র ভুল ধরা হয় 'শাউমা মাউয়া' ছিঁড়ে ফেলার কথা বলায়। এটা কখন বলেছিলেন? যখন গোপালগঞ্জে অভ্যুত্থানের নেতাদের উপরে একদল সন্ত্রাসী হামলা করেছিল। যারা এটাকে বড় অপরাধ বানিয়ে ফেলেছে, তাদের কাছে হামলাটা কিছু না, দোষ হইছে হাদির। এখন হাদিকে খুন করাটাও বড় কিছু না, ওই শাউয়া মাউয়া হচ্ছে বড় অপরাধ!
হাদি সারাজীবন বেগম জিয়ার প্রশংসা করেছেন, জামায়াতের বিপক্ষে সরাসরি কথা বলেছেন, তবুও নাকি হাদি জামায়াত! ঢাকা-৮ এ হাদি নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পরেও জামায়াত প্রার্থী দিয়েছিল ড. হেলাল উদ্দিনকে। আবার শোনা যাচ্ছিল, সাদিক কায়েমও নাকি দাঁড়াবেন ওই আসনে। হাদি তার সকল প্রতিদ্বন্দ্বীকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
সবার প্রতি ইনসাফের কথা বলতেন। কোনো দলে না গিয়ে একাই রাজনীতি করতে গেলেন। মাজারে হামলা, মিডিয়ায় হামলা এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন হাদি। তিনি পড়াশোনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের কথা বলতেন। বিরোধীদেরকে তিনি পরাজিত করতে চাইতেন যোগ্যতায়, সততায়, সাহসে ও নৈতিকতায়। হাদির খুনের পর তার অসংখ্য বক্তব্যের ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। আপনারা পেয়েছেন এমন গভীর প্রজ্ঞাবান দরদী সাহসী কোনো তরুণকে? মানুষ নাকি প্রোপাগান্ডার জোরে হাদিকে ভালোবাসতেছে! কী অদ্ভুত যুক্তি!
ঢাকা-৮ এর প্রচারণার এমন সুন্দর পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারা তৈরি করেছিলেন হাদি; জনগণের সাথে তাদের মতো মিশে সংহতি, সমর্থন, ভালোবাসা ও আস্থার ভিন্ন কালচার তৈরি করেছিলেন। অভ্যুত্থানের প্রধান নেতারা ক্ষমতার অংশীদার ও নানা কারণে বিতর্কিত হলেও হাদি কেবল দিনদিন ভালোবাসাই অর্জন করতেছিলেন, যার কোনো স্বার্থ সম্পদ সুবিধা ছিল না। জনগণ আশা করেছিল, হাদি সংসদে গেলে একজন জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিত তার একটা মডেল হয়ত পাওয়া যেত।
এত সাধাসিধা সহজ সাহসী দরদী জ্ঞানবান একজন মানুষ নাকি এমন কেউ না। তার নাকি কোনো অবদান নাই? তাহলে কারা হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কেউ? যারা প্রচুর ক্ষমতা অর্জন করতে পারে তারা? এই দেশে অবদান রাখতে পারে কারা? যারা হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে একটা কলেজ বানিয়ে যেতে পারে তারা?
হাদি আসলেই কেউ না। তার কোনো আদর্শ নাই, অবদান নাই। যে বিক্রি হয় না, যাকে আপস করানো যায় না- সে এমন কে? আমাদের আদর্শবানদের উচিত হচ্ছে- সকল অন্যায় অত্যাচার সয়ে, সিস্টেমের সাথে আপস করে, দালালি চাটুকারিতা করে, দুর্নীতি আর অবৈধ সুবিধা নিয়ে একটা আরামদায়ক লাইফ লিড করা।
- তানিম ইশতিয়াক
#JuaticeForHadi
1 week ago | [YT] | 13
View 0 replies
Md Faiz Ullah
#JusticeForHadi
1 week ago | [YT] | 28
View 0 replies
Md Faiz Ullah
এক,
বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলেছে। তবে সনদের সবকিছু না, যেই অংশে ঐক্যমত্য হইছে, শুধু সেইটুকু। যেমন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিএনপি পিআর পদ্ধতি করবে না; বরং নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করবে। উচ্চ কক্ষে পিআর থাকলে একটা সম্ভাবনা থাকে যে, কোন দল সরকার গঠন করলেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। বরং অন্যান্য দলের সাথে তার আলাপ আলোচনা করতে হবে। কিন্তু, নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চ কক্ষ বণ্টন হইলে উচ্চকক্ষ আলাদা করে কোন চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্স তৈরি করবে না।
দুই,
জুলাই সনদে যে সকল সংস্কার প্রস্তাব নেয়া হইছে, তার মধ্যে দুইটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক, উচ্চ কক্ষে পিআর, যাতে করে সংবিধান সংশোধন করতে হলে, সরকারি দল অন্যান্য দলের সাথে আলাপ আলোচনা করতে বাধ্য হয়। দুই, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদ যেমন নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পিএসসি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের আলাপ আলোচনা করে একমত হইতে হবে। বিএনপির ইশতিহারে এই দুইটা জিনিসই মিসিং। উচ্চকক্ষে তারা নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে আসন বরাদ্দ করবে। নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু জুলাই সনদ অনুসারে তারা আইন প্রণয়ন করবে। কিন্তু, অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা তাদের মত করে আইন প্রণয়ন করবে। কারণ জুলাই সনদের এই জায়গাতে তাদের আগে থেকে নোট অফ ডিসেন্ট দেয়া আছে।
তিন,
তার মানে দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে পরিবর্তন জুলাইয়ের পরে আমরা চাইতেছি, বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই নাই। একটা কাঠামোগত পরিবর্তন তারা চায় না। বিএনপি মনে করে, সিস্টেমে কোন প্রব্লেম নাই। প্রব্লেম ছিল শুধু ব্যক্তি হাসিনার। হাসিনার পরিবর্তে তারা নিজেরা ক্ষমতায় আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সিস্টেমকে খুব বেশি পরিবর্তন না করলেও হবে।
চার,
কিন্তু সিস্টেমের পরিবর্তন না করলে বড়জোর যেইটা হবে, সেইটা হইল বিএনপি শুধু "কিছুটা ভালো আওয়ামী লীগ" হবে। এর বেশি কিছু না। বরং সময়ের সাথে সাথে তাদেরও খারাপের দিকে পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা বাড়বে। বিএনপির এই রাজনৈতিক পজিশন জনস্বার্থবিরোধী, জুলাইয়ের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বিরোধী, এবং বাংলাদেশের রাজনীতির একটা আমূল পরিবর্তনের বিরোধী।
পাঁচ,
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, আমাদের তরুণ ভাই-বোনদের রক্তের মধ্য দিয়ে, আমাদের দেয়ালে দেয়ালে যে বিপ্লবের আগমনী গান লেখা হইছে, বিএনপি এই লেখা পড়তেও পারতেছে না, বুঝতেও পারতেছে না। বিএনপি যদি স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি না দেয় যে, "হ্যাঁ" ভোট জিতলে নিজেদের নোট অফ ডিসেন্ট অতিক্রম করে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, তাহলে বিএনপির রাজনীতির বিপক্ষে দাঁড়ানোই জুলাইয়ের সত্যিকারের স্পিরিট। জুলাইয়ের শহীদদের শপথ, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটা সত্যিকারের গুণগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাদে, আমাদের আর কোন রাজনীতি নাই সামনের দিনে। এই আকাঙ্ক্ষার সাথে যেই রাজনীতির বিরোধিতা থাকবে, তার সাথে আমাদের বিরোধিতা থাকবে। এইটা এই প্রজন্মের "নো কম্প্রোমাইস জোন"। রেড লাইন।
মির্জা গালিব
1 week ago | [YT] | 10
View 0 replies
Md Faiz Ullah
যমুনার সামনে না হয় ১৪৪ ধারা ছিল। শাহবাগে কি কোনো ১৪৪ ধারা ছিল? তাহলে শাহবাগের জমায়েতে কেন এমন ব্রুটাল এট্যাক চালিয়েছে পুলিশ?
আন্দোলনকারী সন্দেহে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে পেটানো, আন্দোলনকারী সন্দেহে ব্যবসায়ীকে পেটানো, 'জুলাই নামা' বলে হামলা চালানো, 'আয় হাদীর লাশ নিয়ে যা' বলে উপহাস করা, আন্দোলনকারীদেরকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন, একজন আন্দোলনকারীকে মাটিতে ফেলে কয়েকজন পুলিশ মিলে বুট দিয়ে পাড়ানো, আন্দোলনকারী সন্দেহে মোবাইল চেক করা - এগুলো কি সমানুপাতিক বলপ্রয়োগ? এগুলো স্পষ্টতই মনের ভেতর পুষে রাখা জ্বালার বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশ ইচ্ছাকৃত এই ঘটনাকে বাড়তে দিচ্ছে এবং সংক্ষুদ্ধ জনতাকে উত্তেজিত হতে প্রভোক করছে। মনে হচ্ছে এই পেটোয়া পুলিশই (যাদের অনেকেই পুলিশ লীগ) ১২ তারিখে নির্বাচন চায় না। এরা কি ইউনুসের অধীন আছে? নাকি অন্য কোনো কেবলার নিয়ন্ত্রণাধীন? এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। নির্বাচন ১২ তারিখেই হতে হবে। আজকে প্রশাসনের যারা অপেশাদারি আচরণ করছে, তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আজকের পুলিশ লীগের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল জনগণকে জানাতে হবে।
সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক
1 week ago | [YT] | 11
View 0 replies
Md Faiz Ullah
এপস্টেইন ফাইল একটি কেলেঙ্কারি নয়; এটি সভ্যতার আয়না। এই আয়নার মাধ্যমে আমরা পশ্চিমা সভ্যতার বিভৎস চেহারাটা আবারো দেখে ফেললাম।
মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা ও উদারনীতির দাবিদার পশ্চিমা বিশ্ব আসলে কী গভীর নৈতিক অধঃপতনের মধ্যে নিমজ্জিত, তার এক মর্মন্তুদ দলিল এই ফাইল। রাষ্ট্রনায়ক, শিল্পপতি, ক্রীড়া ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সংস্কৃতির নামকরা মুখগুলো—যাদেরকে অনেকে সম্মান ও অনুসরণ করে— শিশু পা*চা*র, যৌ*ন নি*র্যা*তন, মা*নব**মাং*স ভ*ক্ষ*ণের অভিযোগসহ জঘন্য ও বীভৎস সব অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।
পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে চরম ভোগবাদ ও নৈতিকতাহীনতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এরই পরিণতি হিসেবে আমরা দেখি পারিবারিক বন্ধনের ক্ষয়, লজ্জা-সম্মানবোধের অবলুপ্তি এবং এক অন্ধকার বাণিজ্যের জগৎ, যার প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে। আল্লাহর ভয়হীন সমাজ যত ঝকঝকে তকতকে হোক, সুযোগ থাকলে ভোগবাদী মানুষ ধীরে ধীরে কোন স্তরে পৌঁছুতে পারে, এই ঘটনা তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।
তবে এপস্টেইনের ঘটনাটাকে স্রেফ বিকৃত মানসিকতা থেকে উৎসারিত বলা কঠিন। খোলা চোখে যেগুলোকে বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ বলে মনে হয়, সেগুলো পরিকল্পিতভাবে শয়তানতুষ্টির প্রচেষ্টার রিচুয়াল। এত বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্রে ও ধারাবাহিকভাবে এমন জঘন্য পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, একে কেবল মানসিক বিকৃতি বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি এতে শয়তানি উপাসনা ও আরাধনার এক সুসংগঠিত রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পশ্চিমারা আমাদের ঈমান-আমল ও দ্বীনি রিচুয়াল নিয়ে উপহাস করে মূলত আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তি দুর্বল করেছে। পক্ষান্তরে তারা তাদের স্যাটানিক রিচুয়ালিটি ঠিকই বজায় রেখে চলছে।
এই অন্ধকার বাস্তবতার বিপরীতে ইসলাম মানুষকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে বিবেক, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। ইসলামে নারী সম্মানিত, শিশু সুরক্ষিত, পরিবার পবিত্র দূর্গ। ইসলামে নৈতিকতা রক্ষার জন্য রয়েছে আইনি ও আধ্যাত্মিক উভয় বেষ্টনী।
এই ঘটনা আমাদের সামনে সভ্যতার সংজ্ঞা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। আমরা কোন সংস্কৃতি বেছে নেব—যে সংস্কৃতিতে ভোগই শেষ কথা, নাকি যে সংস্কৃতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে? আমরা কি স্যাটানিক রিচুয়াল গ্রহণ করবো, নাকি মহান আল্লাহর সাথে পবিত্র সম্পর্ক গভীর করার পথে হাঁটব?
প্রিয় শায়েখ আহমাদুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ ♥️
2 weeks ago | [YT] | 11
View 1 reply
Md Faiz Ullah
নিচের লিষ্টের ৫-৭ টা তোমার মধ্যে যদি থাকে, আজীবন টানাটানির মধ্যে চলতে হবে। চেক করে দেখো কয়টা আছে।
১. যারা রেগুলার বাইরে খায়, বাইরে যেতে না পারলে বাসায় ফুড ডেলিভারি নেয়: (মাসে ২-৪ বার হলে তেমন সমস্যা না )
২. ছোটখাটো খরচকে “তেমন পাত্তা না দেয়া” ও এইটা তো মাত্র ৫০ টাকা, এইখানে জাস্ট ২০০ টাকা, এইরকম ছোটখাটো খরচ প্রতিদিন ২-৩ টা হতে থাকলে, টাকা যে কোন দিক দিয়ে লিক হয়ে যাচ্ছে টেরই পাওয়া যায় না।
৩. নিয়মিত দাওয়াত থাকলে: দাওয়াতের গিফট, যাওয়া আসার খরচ, দাওয়াতে যাওয়ার জন্য জামা কাপড়। মাস শেষে ভালো একটা অংশ চলে যায়।
.
৪. ধার একবার নেয়া শুরু করলে দেখা যায় প্রতিমাসেই ধার লাগে। আর যে ধার দেয় সে বেচারা ধারের টাকা উঠতে না পেরে ডাবল বিপদে থাকে।
৫. একবার ক্রেডিট কার্ড বা লোনের চক্করে পড়লে, এইটা থেকে বের হওয়া টাফ।
৬. ধূমপান বা নেশা বা বাজে স্বভাব এমন পাবলিকরা বেশিরভাগই টানাটানির মধ্যে থাকে। আর বাজে নেশার মধ্যে পড়লেতো টাকা পয়সাও শেষ, জীবনও শেষ।
.
৭. অনলাইন বা অফলাইনে যারাই জুয়ার সাথে জড়িয়ে গেছে, তারাই সব হারাইছে। পেটেভাতেও চলতে পারে না।
৮. একবার দোকানে বাকি খাওয়া বা বাকি সদাই নেয়া শুরু করলে, সেই চক্কর থেকে দোকানদার এবং খরিদ্দার দুইজনেই বের হতে পারে না।
৯. একবার বেতন পাওয়ার আগে কারো কাছ থেকে ধার নেয়া শুরু করলে বা খরচ করা শুরু করলে মাসের পর মাস এই সাইকেল থেকে মুক্তি নাই। তখন মাসের শেষ ২০ দিন যায় টাকার সাথে যুদ্ধ করে।
.
১০. ফ্যামিলি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির জন্য আগে থেকে টাকা জোগাড় করে না রাখলে শেষ পর্যন্ত ঋণ নিতে হয়। সেই ঋণ শোধ করতে ২-৩ বছর টানাটানি চলতে থাকে।
১১. বছরে দুই একটা ঘুরাঘুরি ঠিকাছে। কিন্তু যারা মাসে মাসে এইখানে না হয় ঐখানে যায়। তাদের হাতে ১০ টাকা জমলে ৫০ টাকার একটা ট্যুর দিয়ে ফেলে। এদের জীবন পেটেভাতে আর রাস্তাঘাটেই চলতে থাকবে।
১২.বিয়ে, বাড়ি করা, দেশের বাইরে যাবে এইসব ফিউচারের মেগা ইভেন্টের জন্য যত বাজেট করবে, জীবনেও সেই বাজেটে শেষ হবে না। তাই এইগুলার জন্য বাজেট যত তার দ্বিগুণ সেইভ না করলে, বিপদে পড়বে।
.
১৩. বাজারের লিস্ট স্ট্রিক্ট না থাকা বা উইন্ডো শপিং। কেউ কেউ আছে, কিনতে যায় একটা জিনিস, কিনে আসে তিনটা। বা দোকানদার আরেকটু ভালো, আরেকটু লোভনীয় জিনিস দেখিয়ে বাজেটের বাইরের জিনিস খসায় দেয়। আর তোমার পকেট খালি হয়ে যায়।
১৪. একবার অনলাইনে কেনার অভ্যাস শুরু করে দিলে দেখা যায়, হুদাই জিনিস কিনে। দরকারের চাইতে, অল্প দরকারি বা অদরকারি জিনিস কিনে।
.
১৫. ডিস্কাউন্টে জিনিস কেনা মানে, জিনিস কেনা না। ফেইক একটা ডিসকাউন্ট কেনা। অর্থাৎ তুমি কখনোই ২০-৩০% ডিসকাউন্ট পাও না। বরং ৭০-৮০% টাকা বিনা কারণে খসাও। সো, ব্যাপার হবে-- আমার জিনিস একান্তই কেনা লাগলে কিনবো-- তখন কূপন পাইলে ইউজ করবো না পাইলে ফুল প্রাইসে কিনবো। এতে সাময়িক খরচ একটু বেশি হলেও ওভারঅল খরচ অনেক কম হবে।
১৬. ফ্রী ট্রায়াল, মাসিক সাবস্ক্রিপশন একটা ট্র্যাপ। মানুষের আলসেমি ও ভুলে যাওয়ার কারণে হুদাই হুদাই টাকা গচ্ছা যেতে থাকে।
১৭. বেশিরভাগ সময় ব্র্যান্ডের জিনিস এর চাইতে ভালো জিনিস বা কাছাকাছি কোয়ালিটির জিনিস অনেক কম দামে পাওয়া যায়। আমি সস্তায় খারাপ জিনিস কেনার কথা বলতেছি না। বরং সিমিলার কোয়ালিটির কম ব্র্যান্ড বা নন-ব্রান্ডের জিনিসের কথা বলছি।
১৮. অন্যদের চাইতে নিজেকে বড় দেখানোর জন্য টাকা খরচ করা মধ্যবিত্তদের জন্য বোকামি। বড়লোক যাদের অসীম টাকা আছে তাদের হিসাব আলাদা।
.
১৯. একটা ফোন ভালোই চলতেছে হুদাই হুদাই আপগ্রেড করা। হয়তো দুইটা ফিচার একটু কম ভালো সেটার জন্য ঝাঁপ দিয়ে, টাকা জোগাড় করে কিনে ফেলা।
২০. রিফান্ড, বোনাস বা ক্যাশব্যাককে “ফ্রি টাকা” মনে করা।
২১. মাসিক খরচ ট্র্যাক না করা বা অপটিমাইজ না করা
.
২২. ইনকামের মিনিমাম ২০% আর সম্ভব হলে ৩০–৫০% সেভ না করা
২৩. বেতন বাড়ালেই আর টাকা পয়সার টানাটানি থাকবে না, মনে করা।
২৪. পেটেভাতে চলতে পারাও কিন্তু পেটেভাতে চলতে না পারার চাইতে ভালো। সেটা নিয়ে শুকরিয়া না করা।
২৫. ইনকাম বাড়ানোর চাইতে খরচ কমানের দিকে বেশি ফোকাস করা
সংগৃহীত
2 weeks ago | [YT] | 6
View 0 replies
Md Faiz Ullah
বাংলাদেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন আসিফ মুক্তিদির। সেই সময় মনে হয়েছিল, উচ্চশিক্ষার পথ হয়তো সেখানেই শেষ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ব্যর্থতাই হয়ে উঠেছে নতুন সম্ভাবনার সূচনা। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লীগভুক্ত কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেইলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন।
ইন্টারমিডিয়েটের পর পরিবারের প্রত্যাশা ছিল—ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা। সে লক্ষ্যেই ঢাকায় এসে কোচিং শুরু করেন। তবে প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। একের পর এক পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই সুযোগ হারান তিনি।
ফল প্রকাশের প্রতিটি দিন ছিল হতাশার। মেরিট লিস্টের শেষ দিক থেকে নাম খোঁজার সেই অপেক্ষা বারবারই ভেঙে দিয়েছে স্বপ্ন। বন্ধুদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু হলেও আসিফ তখন নিজের জায়গা খুঁজছিলেন। সামাজিক চাপ ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পরিবারকেও।
এই ব্যর্থতার পর জীবনের গতিপথ বদলে যায়। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবর্তে স্বাস্থ্যখাতে আগ্রহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত একজন পেশাজীবী হিসেবে। বর্তমানে তিনি একটি প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিকে ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছেন।
রোগী দেখার মাঝেই আসে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ভর্তির ইমেইল। যে মানুষটি একসময় দেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি, আজ তিনি আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।
আসিফ মুক্তিদিরের এই পথচলা মনে করিয়ে দেয়—ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থতা কখনো জীবনের শেষ নয়। সময়, ধৈর্য আর সঠিক সিদ্ধান্ত একজন মানুষকে সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
2 weeks ago | [YT] | 44
View 0 replies
Md Faiz Ullah
তোমরা যারা ২৫-৩০ বা তার চেয়ে কম বয়সী তাদের জন্য কিছু কথা:
১) জীবনে যখন যেখানে আনন্দ করা সম্ভব, করো। পরিবারের সাথে, বন্ধুদের সাথে, প্রিয় মানুষের সাথে। যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ। বয়স যতো বাড়বে ততো রেসপনসেবলিটি আর পারিপার্শ্বিকতার চিপায় তুমি চাপা খেতে খেতে তিতা হয়ে যাবা, 'পরে'র জন্য ফেলে রাখা কিছুই করার সময়/সুযোগ পাবা না।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেখবা আনন্দ একইসাথে রেয়ার এবং এক্সপেন্সিভ হয়ে যায়। সময় থাকতে আনন্দ করো যেনো পরে পস্তাতে না হয়।
২) তুমি যদি নন-বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের হও তাহলে বেসিক ফাইনান্স, এ্যাকাউন্টিং এগুলা শেখা শুরু করো। ইউটিউব, অনলাইন কোর্স যেখান থেকে পারো শেখো, এখন রিসোর্সের অভাব নাই। পুরা দুনিয়া চলে যে টাকার উপরে, সেই টাকা কিভাবে চলে সেটা জানা খুবই জরুরি। না, বড়লোক হওয়ার জন্য না, তুমি যেনো ফাইনান্সিয়ালি ভুল ডিসিশান নিয়ে অথবা কোনো কিছু ডিসাইড করতে না পেরে লংরানে মারা না খাও সেজন্যই বেসিক বিজনেস রিলেটেড নলেজ থাকা খুব জরুরি।
সায়েন্স/ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লে বিজনেস রিলেটেড নলেজ দরকার নাই, এইটা ভয়াবহ ভুল কথা। যতো বয়স বাড়বে, ততো বুঝবা।
৩) যদি টক্সিক রিলেশনে থাকো(এবং সেটা বুঝতে পারো!) তাহলে যতো দ্রুত পারো সেটা থেকে বের হও। এই রিলেশনশিপ যে খালি প্রেমিক প্রেমিকার তা না, এটা বন্ধু বান্ধবের হতে পারে, স্বামী স্ত্রীর হতে পারে, পরিবারের বা আশেপাশের কারোর সাথে হতে পারে।
তোমার যতো বয়স বাড়বে ততো বুঝতে পারবা টক্সিক রিলেশনশিপ লং রানে একটা জিনিসই দেয়, ট্রমা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই ট্রমার সাথে যুক্ত হয় মেন্টাল স্ট্রেস। যতো বেশি টানবা, 'দেখি না আরেকটু' মনে করবা; ট্রমা আর স্ট্রেস ততো বাড়বে।
৪) বন্ধু হয় স্কুল/কলেজ পর্যন্ত, ব্যাস। এরপর তোমার ক্লোজ রিলেশন, ভালো রিলেশন হতে পারে কারোর সাথে কিন্তু সেখান থেকে বন্ধু হওয়া সম্পর্কের পরিমাণ অনেক কম, অধিকাংশ সময় শূন্য। বন্ধুত্ব খুব দামি জিনিস, এটা সবার সাথে হয় না, খুব অল্প কিছু মানুষের সাথে হয়।যে সবাইকে বন্ধু বলে সে আসলে কারোর বন্ধু না এবং তার আসলে কোনো বন্ধু নাই।
বন্ধুত্বকে সম্মান দিতে পারা, সম্পর্ককে ভ্যালু দেয়া মানুষ সময়ের সাথে সাথে তোমার জীবনে ব্লেসিং হিসাবে থাকবে। অন্যদিকে সেল্ফ রেসপেক্টহীন, বেহায়া টাইপের মানুষকে বন্ধু হিসাবে রাখলে ৩ নাম্বারে বলা কেইস হবে, হোং মাং সাং খাবা নিশ্চিত।
৫) সঞ্চয় করা এবং সেটাকে বাড়ানোর উপায় শেখো। বাঙ্গালি মিডলক্লাস সঞ্চয় বলতে শিখায় টাকা ব্যাংকে/আলমারিতে রাখা। এইটাই একমাত্র সঞ্চয়ের উপায় না এবং সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ উপায়গুলার একটা। টাকা হাতে রাখা জরুরি তবে সব টাকা হাতে রাখার যে মেন্টালিটি আমাদের হতদরিদ্র প্যারেন্টস শেখায় সেটা আমাদের সবচেয়ে খারাপ যে জিনিসটা দেয়, সেটা হলো বিনিয়োগ করার ব্যাপারে ভয়।
আমরা ছোট থেকে এই ভয় নিয়ে বড় হই এবং যখন নিজেদের হাতে টাকা আসে তখন এই ভয় অনেক কাজ করতে, সুযোগ নিতে বাধা দেয়। ২ নাম্বার পয়েন্টে বলা শিক্ষাগুলা তোমাকে এই ধরনের পরিস্থিতিতে না পড়তে হেল্প করবে।
৬) বেসিক সায়েন্স (ম্যাথমেটিকস, ফিজিক্স, বায়োলজি), জিওগ্রাফি, ফাইনান্স(আবারো!!), জেনারেল নলেজ এইগুলা একজন সাধারণ বুদ্ধিমান মানুষ হওয়ার জন্য জানা থাকা জরুরি। জেনারেল নলেজ থাকলে অনেক কিছুর কনটেক্সট বোঝা সহজ হয়ে যায়, অনেক ব্যাপারের সহজে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এর সাথে ক্রিটিকাল থিংকিং, লজিকাল রিজনিং সম্পর্কে জানা এবং এগুলা আয়ত্ব করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা জরুরি। এইসব জিনিস যে জীবনে চলার পথে কতো জরুরি সেটা হয়তো সাদা চোখে দেখা যায় না কিন্তু এগুলা করতে না পারলে পদে পদে ধরা খাওয়ার চান্স আছে।
তার সাথে অতি অবশ্যই এমপ্যাথি শেখা। অনেকেই সিম্প্যাথি আর এমপ্যাথিকে এক করে ফেলে। এই দুইটা জিনিস কি, এদের মধ্যে পার্থক্য কি, দুইটার কোনটা কখন কোথায় কিভাবে দেখাতে হবে সেটা বোঝা জরুরি।
৭) তুমিই একমাত্র মানুষ না যে কষ্টে আছে, আশেপাশে যাদের দেখতেছো হাসিমুখ নিয়ে আছে, এদের সবাই কোনো না কোনো কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তুমিই একমাত্র না যার ব্রেকাপ হইছে, যার রেজাল্ট খারাপ হইছে, মা/বাপ ঝাড়ি দিছে, অফিসে এ্যাপ্রেইজাল আটকায়ে গেছে, চাকরি পেতে পেতেও পাওনি। তুমি অন্য সবার মতোই, আমরা সবাই সবার মতোই। খালি আমাদের কষ্টের বর্ণ, গন্ধ আলাদা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কষ্টের লিস্ট বড় হবে, ছোট না।
আরেকটা জিনিস উপলব্ধি করতে পারা খুব জরুরি। তোমার দু:খ একান্তই তোমার ব্যক্তিগত, এটা বাইরের কেউ বুঝবে না, বুঝাতেও যেয়ো না। তোমার দু:খ তোমাকে একা হ্যান্ডল করতে হবে এটা মেনে নাও, জীবন সহজ হবে।
৮) যতো বড় হবা, রেসপনসেবলিটি ততো বড় হবে। এমন না যে তুমি পালায়ে বাচতে পারবা, রেসপনসেবলিটি যেটা ঘাড়ে আসার সেটা আসবেই, টুডে অর টুমরো। তারপর একসময় এমন বয়সে আসবা যখন দেখবা আশেপাশের কাছের মানুষজন এক এক করে যাওয়া শুরু হবে। কয়েক দিন/মাস/বছর পর যখন বাড়ি যাবা; দেখবা আজ ও অসুস্থ, কাল সে নাই।
বড় হওয়া মানে লেখাপড়া করে চাকরি বাকরি করে সংসার করা, বাচ্চা পয়দা করা না। বড় হওয়া মানে নিজের আপনজনদের চোখের সামনে অসুস্থ হতে দেখা, এক এক করে চলে যেতে দেখা, 'কিছু কিছু নাম্বার থেকে আসবে না কোনো ফোন' বুঝতে পারা।
৯) পাওলো কোয়েলহো'র একটা কথা আছে যে তুমি যদি কোনো কিছু মন থেকে চাও তাহলে পুরা দুনিয়া তোমাকে সেটা এনে দেয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। হ, আমি 'আগার কিসি চিজ কো দিল সে চাহো...." ডায়লগটা জানি। ঐটা শাহরুখ খানের কথা না(সরি ফর দ্যা হার্টব্রেক), কোয়েলহোর কথার হিন্দি তরজমা।
তো যা বলছিলাম, এইটা একটা বাখওয়াজ, বাংলায় বললে 'বা*র আলাপ'! তুমি দিল সে চাও আর লান্ড সে, যা চাবা তার সবই পাবা না। বরং বাস্তবতা উল্টা, জীবনে যা চাও তার ম্যাক্সিমামই পাবা না। আবার এমন অনেক কিছু পাবা যেটা কখনোই চাও নাই। জীবন চুতিয়া, ও তোমাকে বাকে বাকে সারপ্রাইজ দিবে। বয়স যতো বাড়বে, তুমি অভ্যস্ত হয়ে যাবা, সারপ্রাইজে অবাক হওয়ার চান্সও ততো কমবে।
জীবন ফেইরিটেল না, কারান জোহরের মুভি না। জীবন মোটাদাগে অনুরাগ কাশ্যাপের মুভি, কিছু কিছু সময় কুবরিকের; কড়া, সাসপেন্সফুল।
১০) শুনতে অবাক লাগতে পারে কিন্তু তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় ইনভেস্টমেন্ট গাড়ি, বাড়ি না; তোমার লাইফ পার্টনার। তোমার পরিবার চুজ করার সুযোগ উপরওয়ালা তোমাকে দেয় না, লাইফ পার্টনার চুজ করার সুযোগ দেয়। এইটা সিনসিয়ারলি চুজ কইরো।
এক বয়সে মনে হবে চেহারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারপর আস্তে আস্তে মনে হবে চেহারা দিয়ে তো খালি হবে না; মানুষটার কথাও বলতে পারতে হবে, আমার কথা বুঝতে পারতে হবে, আমাদের কথা বলার মতো কথা থাকতে হবে। আরও পরে গিয়ে মনে হবে আমার পরিবারকে আপন ভাববে, আমাদের বাচ্চার জন্য ভালো প্যারেন্ট হতে পারবে এমন মানুষ দরকারি। একটা সময় বুঝতে পারবা যে চেহারা আসলে খুবই নগণ্য একটা ফ্যাক্টর, মেন্টাল ম্যাচিং না হলে বাকি সব অর্থহীন।
তোমার পার্টনার ভালো হলে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং ঠিক থাকলে বাকিসব ম্যানেজ করা যায় লাইফে। উল্টাটা হলে মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, গাড়ি সব তুচ্ছ হয়ে যায়। যে মানুষ ঘরে ফিরে শান্তি পায় না তার জন্য আলাদা দোজখের দরকার নাই, জীবনই তার জন্য নরক।
দুই বছর চালাবা যে মোবাইল সেইটা চুজ করতে যে পরিমাণ রিসার্চ করো তার হাজারগুণ বেশি রিসার্চ করা দরকার জীবনসঙ্গী চুজ করার জন্য। এইটা লং-টার্ম খেলা, ম্যারাথন; স্প্রিন্ট না। এইখানে চয়েজে ভুল করলে জীবন মেক সিওর করবে তুমি যেনো বুঝতে পারো যে তুমি চুতিয়া!!
১১) পরিবার পরিবারই। যতোদিন পরিবারের সাথে আছো, যতো বেশি পারো সময় কাটাও। যতো বড় হবা; তোমার নিজের জগত হতে থাকবে, পরিবারের সাথে না চাইলেও দুরত্ব হবে এবং সেটা সময়ের সাথে বাড়বে। তারপর এক সময় দেখবা তুমি বাড়িতে নাই, আজ বাবা নাই, কাল মা অসুস্থ, পরশু ভাই/বোন চলে যাবে দূরে বা বিদেশ। ইদে চান্দে ঐ বাড়িতেই যাবা অথচ কথা বলার কেউ থাকবে না।
শুক্রবারের দিন জুম্মার নামাজের পর সবাই একসাথে বসে ভাত খাওয়া বা এক রুমে পরিবারের সবাই মিলে হাসি তামাশা করা যে কি পরিমাণ দামি সেটা সময় তোমাকে বোঝাবে এবং খুব রূঢ়ভাবে বোঝাবে। তাই সময় থাকতে পরিবারের সাথে সময় কাটাও যতো বেশি পারো।
এরপর একদিন একটা কল আসবে, অপরপ্রান্ত থেকে একজন বলবে 'বাড়ি আসো, অমক আর নাই'! এই যে অমকের না থাকা, এই যে চিরস্থায়ী শুন্যতা, এই যে খবরটা শোনার পর দীর্ঘ যাত্রা প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার জন্য, 'কতো কথা বলার ছিলো অথচ বলা হলো না'র হাহাকার নিয়ে বাকিজীবন বেচে থাকা -
এটাই অ্যাডাল্টহুড, এটাই জীবন।
- রাফিউল সাব্বির
2 weeks ago (edited) | [YT] | 21
View 3 replies
Load more